এখনো শিশু তাবাচ্ছুমের খোঁজ মেলেনি, স্বজনদের ছোটাছুটি
বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজ আড়াই বছরের শিশু তাবাচ্ছুমের কোনো খোঁজ আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মেলেনি। এদিকে গতকাল শুক্রবার থেকে তাবাচ্ছুমের মতো দেখতে ও সমবয়সী এক শিশুর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তাবাচ্ছুমের স্বজনদের দাবি, ছবির শিশুটিই তাবাচ্ছুম।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, একটি শিশু সাদা চাদরের ওপর চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। তবে শিশুটি বেঁচে আছে কি না, সেটা বোঝার উপায় নেই। ওই ছবিতে সাদা গ্লাভস পরা একটি হাত ওই শিশুর মাথার সঙ্গে ঠেকে থাকতে দেখা যাচ্ছে। সাদা গ্লাভস পরা হাত দেখে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা ধারণা করছেন, শিশুটি কোনো হাসপাতালে আছে।
তাবাচ্ছুমের নানা রুহুল আমিন প্রথম আলোক বলেন, ছবিটি তাঁর নাতনির। পরিবারের একাধিক সদস্য ছবি দেখে সেটাই নিশ্চিত হয়েছেন।
নিখোঁজ তাবাচ্ছুম পাথরঘাটার ছোট পাথরঘাটা বায়তুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ নাছরুল্লাহর মেয়ে। এদিকে মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে মোহাম্মদ নাছরুল্লাহ, তাঁর স্ত্রী সোনিয়াসহ অন্য স্বজনেরা ঝালকাঠি ও বরগুনা ছুটে বেড়াচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে ওই ছবির ব্যাপারে মোহাম্মদ নাছরুল্লাহ বা তাঁর স্ত্রী সোনিয়ার কোনো বক্তব্য জানা সম্ভব নয়নি।
গতকাল বিকেলে মোহাম্মদ নাছরুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, লঞ্চের দ্বিতীয় তলার ডেকে স্ত্রী সোনিয়া আক্তার ও সন্তান তাবাচ্ছুমকে নিয়ে শুয়ে ছিলেন তিনি। মধ্যরাতে লঞ্চে আগুনের খবর পেয়ে তাঁরা সিঁড়ি বেয়ে লঞ্চের ছাদে চলে যান।
মোহাম্মদ নাছরুল্লাহ বলেন, অনেক যাত্রীর সঙ্গে তিনি স্ত্রী সোনিয়া ও মেয়ে তাবাচ্ছুমকে নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন। ঝাঁপ দেওয়ার পর তাবাচ্ছুম তাঁর হাতের মধ্যেই ছিল। এরপর সাঁতরানোর সময় হঠাৎ করে হাত পিছলে তাবাচ্ছুম ছুটে যায়। এ সময় তাকে আবার পায়ের কাছে অনুভব করে কোনোরকমে পা দিয়ে তাবাচ্ছুমকে টেনে কাছে নেন। আবার হাতে নিয়ে সাঁতরে কিছু দূর এগিয়ে যেতেই হাত থেকে ছুটে যায় তাবাচ্ছুম। কিছুক্ষণের মধ্যেই একমাত্র মেয়েকে নদীতে হারিয়ে ফেলেন তিনি।
ওই লঞ্চের দেড় শতাধিক যাত্রী ছিলেন বরগুনার পাথরঘাটার বাসিন্দা। এর মধ্যে পাথরঘাটার মাদ্রাসাশিক্ষক আবদুর রাজ্জাকের লাশ পাওয়া গেছে। আজ সকালে পাথরঘাটার হাজী জালাল উদ্দিন মহিলা কলেজ-সংলগ্ন মাঠে তাঁর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে।