‘এত লোকের ভিড়ে আমরা শ্বাস নিতে পারছিলাম না’

মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাটে ফেরি শাহ পরান ও এনায়েতপুরী থেকে নামতে গিয়ে নারীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হন অন্তত ৩০ জন যাত্রী। আহতদের উদ্ধার করে পাঠানো হচ্ছে হাসপাতালে। বুধবার দুপুরে ফেরিঘাটে
ছবি: প্রথম আলো

‘ফেরিটি মাঝপদ্মায় যাওয়ার পরে প্রচণ্ড রোদ আর গরমে ফেরির ডেকে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। এত লোকের ভিড়ে আমরাই শ্বাস নিতে পারছিলাম না। খুব কষ্ট হচ্ছিল। নামার জন্য সবাই ছটফট করছিল। তাই ফেরিটি বাংলাবাজার ঘাটে ভিড়লে যাত্রীরা নামার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করে দেন। তখনই যাত্রীদের মধ্যে যে যাকে পারে ঠেলাঠেলি শুরু হয়। একপর্যায়ে দেখা যায়, অর্ধশতাধিক যাত্রী জ্ঞান হারিয়ে ডেকেই পড়ে আছেন। কিছুক্ষণ পরে দেখি, জ্ঞান হারানো দুজন নারী ও দুজন পুরুষ মারাই গেছেন।’

বুধবার দুপুরে মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাটে এনায়েতপুরী নামের যে ফেরিটি থেকে নামতে গিয়ে নারীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে, ওই ফেরিতেই থাকা প্রত্যক্ষদর্শী আমির হোসেন (২৮) কথাগুলো বলছিলেন। তিনি রাজধানী ঢাকা থেকে ঈদ করতে বরিশালের গৌরনদীতে যাচ্ছেন।

বাংলাবাজার ঘাটে ফেরি শাহ পরান ও এনায়েতপুরী থেকে নামতে গিয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ জন। আহত লোকজনের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাঁচ্চর রয়েল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঈদে ঘরমুখী মানুষের ভিড়
ছবি: প্রথম আলো

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী খুলনার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ফেরি এনায়েতপুরীতে দুইটা অ্যাম্বুলেন্স। চারটা ট্রাক আর মোটরসাইকেল ছাড়া বাকি সবাই যাত্রী ছিল। আমরা ফেরিতে ওঠার সময় এক প্রকার যুদ্ধ করেই উঠতে হয়েছে। তখনই যাত্রীদের অনেককে অসুস্থ হয়ে পড়তে দেখেছি। পরে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পরে ফেরি ঘাটে এসে ভেড়ে।’

আরও পড়ুন

এনায়েতপুরী ফেরিতে মাদারীপুরগামী আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মাসুম খান বলেন, ‘ফেরির ডেকে বেশির ভাগ যাত্রী গায়ের সঙ্গে গা লাগিয়ে দাঁড়িয়েছিল। দুই ঘণ্টার বেশি সময় দাঁড়িয়ে থেকে ফেরি বাংলাবাজার ঘাটে ভেড়ার আগেই অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফেরিতে ভিড় আর মানুষের গাদাগাদিতে সবাই নামার জন্য ছটফট করতে থাকে। অনেকেই পানির জন্য চেঁচামেচি পর্যন্ত করছিল।’

মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাটে ফেরি শাহ পরান ও এনায়েতপুরী থেকে নামতে গিয়ে নারীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হন অন্তত ৩০ জন যাত্রী। আহতদের উদ্ধার করে পাঠানো হচ্ছে হাসপাতালে। বুধবার দুপুরে ফেরিঘাটে
ছবি: প্রথম আলো

প্রত্যক্ষদর্শী বিআইডব্লিউটিসির এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফেরি থেকে দ্রুত নেমে যাওয়ার সময় যাত্রীরা একজন আরেকজনেরও গায়ের ওপর দিয়ে ঠেলাঠেলি শুরু করেন। এতেই অনেক অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাঁরাই অন্য যাত্রীদের পায়ে দলিত হন।’

আরও পড়ুন

শিবচর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিমুলিয়া থেকে অনেক লোক নিয়ে আসা একটি ফেরিতে যাত্রীর অতিরিক্ত চাপ এবং প্রচণ্ড গরমে মানুষের মধ্যে যে চাপাচাপি শুরু হয়, তাতেই মূলত এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা জেনেছি। পরবর্তীতে আর যেন কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে, তার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হাতে নিয়েছি। ঈদে ঘরমুখো মানুষ যেন নির্বিঘ্নে বাড়িতে ফিরতে পারে, সে জন্য ইতিমধ্যে শিমুলিয়া থেকে আসা ফেরিগুলোতে শুধু যাত্রী বহন করে আনার জন্য ঘাট কর্তৃপক্ষকে আমরা নির্দেশ দিয়েছি।’