‘কাজ না পাইলে পাঁচজনের পরিবার চলব কেমনে?’
সিলেটের শ্রমের হাট নগরের বন্দরবাজার এলাকায় দাঁড়িয়ে ছিলেন নাজমুল মিয়া। তিনি সিলেটের সুনামগঞ্জের ছাতকের বাসিন্দা। স্ত্রী-সন্তানসহ পাঁচজন মিলে থাকেন সিলেট নগরের সুবিদবাজার এলাকার একটি কলোনিতে। সকাল সাতটায় শ্রমের হাটে কাজের সন্ধানে বের হয়েছিলেন তিনি। তবে সকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত তিনি কাজ পাননি।
নাজমুল মিয়া বলেন, ‘গতকাল সোমবারও কাজ পাইনি। আজও যদি কাজ না পাই, তাহলে পাঁচজনের পরিবার নিয়ে চলব কেমনে? এখন চালের কেজি ৫০ টাকা, তেল ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। সঙ্গে আরও বাজারসদাই করতে হয়। প্রতিদিন পাঁচজনের পরিবারে কম করে হলেও ৫০০ টাকা ব্যয় হয়।’ তিনি আরও বলেন, গত রোববার কাজে গিয়ে ৭০০ টাকা আয় করেছিলেন। এর আগের দিনও কাজ পেয়েছিলেন। তবে গতকাল কাজ ছিল না।
সিলেট নগরে কয়েকটি শ্রমের হাট আছে। এর মধ্যে বন্দরবাজার এলাকায়ও প্রতিদিন সকাল ৬টার পর থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দিনমজুর হিসেবে কাজ করা শ্রমিকেরা ওই হাটে উপস্থিত থাকেন। দৈনিক চুক্তিতে তাঁরা সেখান থেকে বিভিন্ন জায়গায় কাজে যান। কাজ অথবা শ্রমিকভেদে মজুরি পড়ে ৫০০ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত। এসব হাটে নারী শ্রমিকেরাও উপস্থিত থাকেন।
হাট থেকে নির্মাণশ্রমিকের সহকারী, পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন করা, মাটির কাজের জন্য বেশি খোঁজ পড়ে। এসব হাট থেকেই শ্রমিক সংগ্রহ করে থাকেন ঠিকাদারি কাজের শ্রমিক হিসেবে কাজের জন্য। এ ছাড়া গৃহস্থালি কাজের জন্য চুক্তিতেও শ্রমিকেরা কাজ করে থাকেন। হাটে নির্মাণশ্রমিকের সহকারী হিসেবে কাজের সন্ধানে গিয়েছিলেন শফিকুর রহমান। তিনি নগরের শিবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তিনি বলেন, ভবন ঢালাইয়ের কাজের জন্য দুজন শ্রমিকের প্রয়োজন। আরও পাঁচজন শ্রমিক ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেছেন। তবে ভবন নির্মাণের কাজে থাকা নির্মাণশ্রমিক বলেছেন, ‘আরও দুজন শ্রমিক হলে ভালো হয়। সে জন্যই হাটে এসেছি।’
আজ মঙ্গলবার সকালে অবস্থান করে দেখা গেছে, হাটে উপস্থিত থাকা শ্রমিকেরা ঝুড়ি-কোদালও নিয়ে এসেছেন। হাটে কেউ উপস্থিত হলে কিংবা তাঁদের দিকে তাকালে জিজ্ঞাসা করছেন কাজের জন্য মানুষ লাগবে কি না? পরে চলে দরদাম। হাটে আসা কেউ শ্রমিকের কথা বললেই অন্যরা তাঁকে ঘিরে ধরছেন।
সকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত কাজ না পেয়ে বসে ছিলেন যামিনী বেগম। তিনি নেত্রকোনার বাসিন্দা। বিয়ে করেছেন দক্ষিণ সুরমা এলাকায়। স্বামী পক্ষাঘাতগ্রস্ত, এ জন্য তিনিই সংসারের হাল ধরেছেন।
দিনমজুরের কাজ করছেন। কাজ না পাওয়ায় শ্রমের হাটে উপস্থিত আরেক নারী রাবেয়া বেগমের সঙ্গে গল্প করছিলেন তিনি। বলেন, নারীদের কাজে নিয়ে যান পুরুষ শ্রমিকেরাই। আবার নিজেরাও কাজের জন্য সরাসরি মালিকদের সঙ্গে কথা বলেন। নারীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নের কাজ বেশি করেন। তবে পুরুষদের মতো অন্য কাজও করেন তাঁরা।