কুষ্টিয়ায় করোনায় এক দিনে সর্বোচ্চ ১৭ জনের মৃত্যু

লাশ।
প্রতীকী ছবি

টানা ১৫ দিনের কঠোর লকডাউনের মধ্যে কুষ্টিয়ায় শনাক্ত ও মৃত্যুর মিছিল থামানো যাচ্ছে না। প্রতিদিনই আশঙ্কাজনক হারে শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা রেকর্ড গড়ছে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ রোগী ছিল ১৭ জন। বাকি তিনজন করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। গত ৪৮ ঘণ্টায় ৪১ জনের মৃত্যু হলো।

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে আজ সোমবার সকালে এ তথ্য পাওয়া যায়। জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৯২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ৮৮৫টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ৩০ শতাংশ। শনাক্ত রোগীদের মধ্যে সদরে ১৫৩ জন আর সীমান্তবর্তী উপজেলা দৌলতপুরে ৪৪ জন। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১০৩ জন।

মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে করোনা ডেডিকেডেট ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ১৪ জন পজিটিভি ভর্তি রোগী মারা গেছেন। সেখানে ৩ জন উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগী মারা যান। এ ছাড়া কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন ও খোকসাতে ১ জন মারা যান।

করোনা ডেডিকেডেট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল সূত্র বলছে, ২০০ শয্যার এই হাসপাতালে সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৮৭ জন রোগী ভর্তি আছে। তার মধ্যে ১৯৩ জন করোনা পজিটিভ রোগী আর বাকি ৯৪ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছেন।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তাপস কুমার সরকার বলেন, রোগীদের মধ্যে ৭৫ ভাগ রোগীর অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে। শয্যার তুলনায় এতসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম পোহাতে হচ্ছে। গুরুতর রোগী আছেন অন্তত ৫০ জন। হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলার অভাব আছে।

এদিকে ১৩ দিন পর এই হাসপাতালের বহির্বিভাগ সেবা চালু করা হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে আটটা থেকে হাসপাতালের সামনে কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক সমিতি মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ডায়াবেটিক হসপিটালে এই সেবা দেওয়া হচ্ছে।

বহির্বিভাগ সেবার পুরুষ ইউনিটে দায়িত্বরত চিকিৎসক রুমন রহমান বলেন, ডায়াবেটিক হাসপাতালের দুটি কক্ষে পুরুষ ও নারীদের বহির্বিভাগ সেবা দেওয়া হচ্ছে। এখানেই সরকারিভাবে টিকিট কেটে জেলার সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্রসেবা নিতে পারবে। তবে ওষুধসেবা আপাতত বন্ধ আছে।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এক দিনে সর্বোচ্চ ১৭ জন করোনা পজিটিভি রোগীর মৃত্যু এটাই প্রথম। করোনায় সচেতন না হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। এখনো গ্রামের মানুষ জ্বর–ঠান্ডা হলে অসচেতনভাবে থাকছে। তাঁরা চিকিৎসা নিচ্ছেন না। এমনকি সঠিক সময়ে করোনা টেস্টও করাতে অনীহা দেখাচ্ছেন।