কুষ্টিয়ায় তিন খুনের মামলায় তিনজনের আমৃত্যু, আটজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
কুষ্টিয়ায় দরপত্র নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় আরও আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা সবাই পলাতক ছিলেন।
আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পুলতাডাঙ্গা গ্রামের আসকর আলীর ছেলে ফারুক সরদার, পশ্চিম আবদালপুর গ্রামের ইছাহক আলীর ছেলে কালু এবং কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার ২ নম্বর মসজিদবাড়ি লেনের কাল মজনুর ছেলে রোহান।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ঝিনাইদহ হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত খোরশেদ মণ্ডলের ছেলে ফারুক মণ্ডল, ভায়না গ্রামের জবেদ আলীর ছেলে আলতাফ, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার করিমপুর গ্রামের জলিল শেখের ছেলে লিয়াকত হোসেন, এছেম শেখের ছেলে মনোয়ার হোসেন, মৃত আনছার শেখের ছেলে হিয়া, মৃত ওয়াহেদ আলী জোয়ার্দ্দারের ছেলে জমির উদ্দিন জোয়ার্দ্দার, খোর্দ্দবাখাইল গ্রামের আবু বক্কার মণ্ডলের ছেলে নূরাল এবং মাঝপাড়া গ্রামের মৃত ওম্মাদ মণ্ডলের ছেলে খাকচার মণ্ডল।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা সবাই পলাতক ছিলেন। এদের মধ্যে অনেকে পালিয়ে ভারতে অবস্থান করছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ৮ আগস্ট কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বাসিন্দা কাইয়ুম সাখাওয়াতী বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। দুই দিন পর ১০ আগস্ট সকালে কুষ্টিয়া শহরের সাদ্দাম বাজার এলাকায় গণপূর্ত কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ব্যাগের ভেতর তিনটি মাথা পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়। কাইয়ুমের ছোট ভাই মুহাম্মদ আবদুল হাই তাঁর ভাইয়ের মাথা শনাক্ত করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বাকি দুটি মাথা আয়ুব আলী ও শামসুজ্জামানের বলে শনাক্ত হয়।
এর কয়েক ঘণ্টা পর সদর উপজেলার সোনাইডাঙ্গা গ্রামের মাঠের ভেতর পটোল ও শসা খেতের আইলে তিনজন ব্যক্তির দেহ, হাত, পা বাঁধা অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে। পরে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে মাথা ও দেহ একই ব্যক্তিদের বলে নিশ্চিত করা হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা ৯ আগস্ট দিবাগত রাতের কোনো এক সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যার পর লাশ ১৫ কিলোমিটার দূরে কুষ্টিয়া শহরে গণপূর্ত কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে রেখে আসে। মামলাটি তদন্ত শেষে পুলিশ ২২ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। ২০১৩ সালের ৩০ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে এলজিইডি কার্যালয়ে ১৮ কোটি টাকার দরপত্র বাগিয়ে নিতে একত্রে তিনজনকে হত্যা করে লাশ গুম করার অপরাধ প্রমাণিত হয়। আসামিরা সবাই চরমপন্থী সংগঠন জাসদ গণবাহিনীর শীর্ষ নেতা ও সদস্য।
কুষ্টিয়া আদালতের সরকারি কৌঁসুলি অনুপ কুমার নন্দী বলেন, সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তিনজন আসামিকে আমৃত্যু এবং আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১১ জনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। পলাতক সব আসামিদের ধরতে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকে পালিয়ে ভারতে অবস্থান করছে।