খুলনা ও বাগেরহাটে ছয় শতাধিক খাল খনন ও পুনঃখনন হবে

বরাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত কৃষক সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক
ছবি: প্রথম আলো

‘লবণাক্ততার কারণে উপকূলীয় এলাকায় সারা বছরে একটি ফসল হতো। আমন ধান তোলার পর বছরের বাকি সময় মাঠের পর মাঠ জমি অলস পড়ে থাকত। এই প্রতিকূল ও বিরূপ পরিবেশে বছরে কীভাবে দুই থেকে তিনবার ফসল চাষ করা যায়—সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে আসছি। ইতিমধ্যে অনেক সাফল্য এসেছে। এটিকে আরও সম্প্রসারিত করা হবে, যেন এই এলাকায় সারা বছর বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করা যায়। সেচের পানির সমস্যা দূর করতে খুলনা ও বাগেরহাটে ছয় শর বেশি খাল খনন বা পুনঃখনন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

আগাম শিম চাষ ও অসময়ের তরমুজ চাষ সরেজমিন পরিদর্শন শেষে আজ রোববার সকালে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ঘেরের আইলে আয়োজিত কৃষক সমাবেশে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের উপকূলীয় ও দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত জমিতে কৃষি উৎপাদনের সম্ভাবনা অনেক। ইতিমধ্যে দেশের কৃষিবিজ্ঞানীরা ধান, ডাল, তরমুজ, আলু, ভুট্টা, বার্লি, সূর্যমুখী, শাকসবজিসহ অনেক ফসলের লবণাক্তসহিষ্ণু উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছেন। এসব জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তি উপকূলবর্তী এলাকার চাষিদের মধ্যে দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে রোডম্যাপ তৈরির কাজ চলছে।

চাষিরা এসব ফসলের চাষ করলে দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত এলাকায় নতুন করে কৃষিবিপ্লব ঘটবে। এ এলাকার মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়বে ও মানুষের জীবনযাত্রার মানের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আব্দুর রাজ্জাক।

এদিকে পরিদর্শনকালে স্থানীয় সাংসদ নায়ায়ণ চন্দ্র চন্দ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব ওয়াহিদা আক্তার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ, বিএডিসির চেয়ারম্যান অমিতাভ সরকার, বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ মো. বখতিয়ার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে উপকূলীয় এলাকায় মোট জমির পরিমাণ ২৮ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর, এর মধ্যে চাষযোগ্য ২১ লাখ ৬২ হাজার হেক্টর। আর লবণাক্ত এলাকার পরিমাণ ১০ লাখ ৫৬ হাজার হেক্টর। এ ছাড়া লবণ পানির ভয়াবহতার কারণে প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে উপকূলীয় এলাকায় পাঁচ লক্ষাধিক হেক্টর জমি অনাবাদি থাকে।