খুলনার সেই প্রকাশ কুমার কারাগারে

প্রকাশ কুমার দাশ

খুলনা জেনারেল (সদর) হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) প্রকাশ কুমার দাশকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ রোববার দুপুরে খুলনা মহানগর দায়রা জজ বিশেষ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ১৮ নভেম্বর প্রকাশ কুমারের বিরুদ্ধে সদর হাসপাতালের কোভিড পরীক্ষার ২ কোটি ৫৭ লাখ ৯৭ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছিল দুদক।

দুদকের আইনজীবী খন্দকার মজিবর রহমান বলেন, প্রকাশ কুমার পলাতক ছিলেন। আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিন আবেদন করলে বিচারক শহিদুল ইসলাম নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ওই মামলার বাদী দুদকের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক খন্দকার কামরুজ্জামান।
খুলনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল (সদর) হাসপাতালে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) হিসেবে কর্মরত ছিলেন প্রকাশ কুমার দাশ। তাঁকে বিদেশগামীদের কোভিড পরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই পরীক্ষার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ঠিকমতো জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগে ওই মামলা করা হয়েছিল।

মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রকাশ কুমার দাশ কোভিড পরীক্ষা থেকে ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত ৪ কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯০০ টাকা ফি আদায় করেন। কিন্তু সরকারি কোষাগারে জমা দেন ১ কোটি ৬৬ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০ টাকা। বাকি ২ কোটি ৫৭ লাখ ৯৭ হাজার ২০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে অফিস থেকে বের হওয়ার পর প্রকাশ কুমারকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তিনি ভারতে পালিয়ে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করছিলেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ওই দিন সন্ধ্যায় জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে খুলনা সদর থানায় প্রকাশ কুমারের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে ওই জিডির ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করেছিলেন খুলনার সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ। মামলার প্রক্রিয়া হিসেবে অনুমোদনের জন্য তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছিল দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়। সেখান থেকে অনুমতি পাওয়ার পর মামলা করা হয়।

খুলনা সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, গত ডিসেম্বরে খুলনার সিভিল সার্জন হিসেবে যোগ দেন চিকিৎসক নিয়াজ মোহাম্মদ। ওই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কও তিনি। যোগ দেওয়ার পর বিদেশগামীদের কোভিড পরীক্ষার টাকা ঠিকমতো জমা দেওয়া হচ্ছে না বলে সন্দেহ করেন তিনি। এরপর প্রকাশ কুমারের কাছে সব পরীক্ষার তথ্য ও হিসাব চাওয়া হয়। হিসাব জমা দিতে গড়িমসি করছিলেন তিনি। সর্বশেষ গত ২২ আগস্ট সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ওই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

তাতে দেখা যায়, প্রকাশ কুমারের জমা দেওয়া টাকার সঙ্গে ২ কোটি ৫৭ লাখ ৯৭ হাজার টাকার অসংগতি রয়েছে। পরদিন প্রকাশ কুমারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও ওই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চিঠি দেন সিভিল সার্জন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ওই টাকা জমা দেওয়ার কথা ছিল। সকালের দিকে অফিসে এসে দুপুরের দিকে কাউকে কিছু না বলে বেরিয়ে যান প্রকাশ কুমার। এর পর থেকে আর তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দফায় দফায় তাঁর বাড়িতে গিয়েও কোনো খোঁজ পাচ্ছিলেন না।