গতি পাবে ভোমরা বন্দর ও সুন্দরবনের পর্যটন

ঢাকা থেকে সুন্দরবনে পৌঁছাতে আগে লাগত ১১-১২ ঘণ্টা। পদ্মা সেতু দিয়ে আসতে লাগবে প্রায় ছয় ঘণ্টা।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় ভারত থেকে পণ্য আমদানি বা দেশটিতে রপ্তানির ক্ষেত্রে ভোমরা স্থলবন্দরের ব্যবহার বাড়তে পারে
ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরার ব্যবসা-বাণিজ্যে ও পর্যটনের চিত্র যাবে বদলে। পর্যটক বাড়বে সুন্দরবনকে ঘিরে। যাতায়াত বাড়বে ভোমরা স্থলবন্দরেও। এর মধ্য দিয়ে ভারতের কলকাতার সঙ্গে ঢাকার দূরত্ব যাবে কমে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে কৃষিসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে।

পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে জেলার এমন সম্ভাবনার কথা এখন ব্যবসায়ী, শ্রমিক, সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের মুখে।

আগে সাতক্ষীরা থেকে আরিচা হয়ে ঢাকায় যেতে সময় লাগত কমপক্ষে ৯ ঘণ্টা। যানজট ও ফেরির সমস্যা হলে গন্তব্যে পৌঁছাতে কত সময় লাগবে তার ঠিক ছিল না। এখন সড়কপথে দূরত্ব ৪৫ কিলোমিটার কমে যাওয়ার পাশাপাশি ফেরি সমস্যার বিড়ম্বনাতে পড়তে হবে না।

যাতায়াত সহজ হওয়ায় পর্যটকের আনাগোনা বাড়তে পারে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায়
ছবি: সংগৃহীত

একইভাবে কলকাতা থেকে সড়কপথে ভোমরা বন্দর হয়ে সহজে ছয় ঘণ্টায় পণ্যবাহী যান ঢাকায় পৌঁছাতে পারবে। ভোমরা কাস্টমসের সহকারী কমিশনার আমীর মামুন বলেন, বর্তমানে ভারত থেকে প্রতিদিন ৩০০-৩৫০টি পণ্যবাহী গাড়ি বাংলাদেশে ঢোকে। এতে রাজস্ব আয় হয় তিন থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকা। বছরে গড়ে আয় হয় এক হাজার কোটি টাকা। পদ্মা সেতু চালুর পর এ গতি পাল্টে যাবে। বাড়বে বন্দরে আমদানি-রপ্তানি। শুরু হবে কর্মযজ্ঞ।

সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, যশোরের বেনাপোল বন্দরের চেয়ে সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দরের সঙ্গে কলকাতার দূরত্ব ৩০ কিলোমিটারের কম। সব মিলিয়ে কলকাতা থেকে ভোমরা বন্দর আর এর পর পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় যেতে ৭৫ কিলোমিটার সড়কপথ কমবে।

এদিকে ব্যবসার পাশাপাশি সহজ হবে জেলার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র সুন্দরবনে যাতায়াতে। মীর নিজাম উদ্দিন বলেন, আগে ঢাকা থেকে সড়কপথে সুন্দরবনে পৌঁছাতে ১১–১২ ঘণ্টা লাগত। পদ্মা সেতুর কারণে তা কমে ছয় ঘণ্টায় চলে আসবে।

সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন বলেন, সড়কপথে সুন্দরবন দেখা গেলেও ভোগান্তির কারণে অধিকাংশ সময় পর্যটকেরা সাতক্ষীরা দিয়ে সুন্দরবনে আসতে চান না। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হলে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়বে। পাশাপাশি হোটেল ও মোটেল নির্মাণ করা হবে।

আগে সাতক্ষীরা থেকে কৃষিপণ্য ঢাকা পৌঁছাতে পৌঁছাতে সড়কেই পচে যেত। জেলা নাগরিক কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ সরকার বলেন, যোগাযোগব্যবস্থার সুফলের কারণে আম, মাছ দ্রুত ঢাকায় পৌঁছানো যাবে। এতে কমবে দাম।

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে যেসব জেলা উপকৃত হবে তার মধ্যে সাতক্ষীরা অন্যতম। ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হওয়া মানেই সব দিক থেকে উন্নতি হওয়া। মানুষ দিনে দিনে ঢাকায় গিয়ে কাজ মিটিয়ে আবার ফিরে আসতে পারবেন।