রাজশাহীতে ঈদের কেনাকাটা
গরমের কারণে রাতে বেশি ভিড়, দাম কিছুটা বেশি
বাজারে এখন ‘পুষ্পা’ ও ‘কাঁচা বাদাম’ নামের পোশাকের কাটতি বেশি। ‘সারারা’,‘গারারা’ এর চাহিদাও আছে।
রাজশাহীতে এখন তীব্র গরম। গরমে রোজা রেখে অনেকে দিনের বেলা কেনাকাটা করছেন না। তবে ইফতারির পর বিপণিবিতানে ঢল নামে ক্রেতাদের। এ জন্য দিনের চেয়ে রাত ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কেনাবেচা হচ্ছে বেশি। ক্রেতারা বলছেন, গত দুই–তিন বছরের তুলনায় এবার প্রায় প্রতিটি পোশাকের দাম কিছুটা বাড়তি।
ঈদুল ফিতরের এগিয়ে আসতে থাকায় নগরের আরডিএ মার্কেটের সামনের সড়কে যানজট থাকে সারা দিনই। কয়েকজন বিক্রেতা বলেন, সবচেয়ে বেশি দোকান রয়েছে আরডিএ মার্কেটে। তবে নগরের বিত্তবান ক্রেতারা ভিড় করছেন ৫০-৬০টি অভিজাত বিপণিবিতানে। বাজারে এখন ‘পুষ্পা’ ও ‘কাঁচা বাদাম’ নামের পোশাকের কাটতি বেশি। এ ছাড়া, ‘সারারা’, ‘গারারা’ ও ভারতীয় ‘অরগেনজা’ থ্রি-পিসের চাহিদাও আছে। তবে কয়েকজন বিক্রেতা বলেন, ‘পুষ্পা’ ও ‘কাঁচা বাদাম’ নামে আসলে কোনো পোশাক নেই। পোশাকের বিক্রি বাড়াতে দোকানদারেরা পোশাকের এসব নাম দিচ্ছেন।
আরডিএ মার্কেটের একটি দোকানে গৃহবধূ রাহেলা বেগম তাঁর মেয়ে সুমির জন্য একটি ফ্রক পছন্দ করলেন। সুমি তা নিতে রাজি নয়। বারবার দোকানিকে বলছে ‘পুষ্পা ড্রেস’ দেখান। নগরের বোসপাড়া থেকে ঈদের বাজার করতে এসেছিলেন মনোয়ারা বেগম। তিনি দুই ছেলের জন্য কাঁচা বাদাম আর পুষ্পা শার্ট কিনেছেন। কাঁচা বাদাম আর পুষ্পা কী জিনিস, সেটা তিনি জানেন না। বাচ্চার পছন্দ তাই কিনেছেন।
একটি দোকানের বিক্রয়কর্মী মোহাম্মদ মধু স্বীকার করলেন, এগুলো আসলে চায়না কাপড়ের পোশাক। ভারতীয় সিনেমা, সিরিয়ালের নামে বাজারে এসেছে। এখন অনলাইনে ক্রেতারা আগেই সব খবর পেয়ে যাচ্ছেন।
দোকানির সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সাধারণত ছোট ছেলেমেয়েরা কাঁচা বাদাম, পুষ্পাতে ঝুঁকলেও তরুণীরা মেতেছেন সারারা-গারারা পোশাকে। অনেকে লং গাউন কিনছে। তবে গরম বেশি হওয়ায় সুতির কাপড় বিক্রি হচ্ছে দেদার। এবার সারারা ও গারারা ১ হাজার ৫০০ থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। লং গাউন ১ হাজার ২০০ থেকে শুরু করে ৪ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। আর ছেলেরা প্রতিবছরের মতো এবারও পাঞ্জাবি কিনছেন। ১ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার টাকার পাঞ্জাবি বেশি বিক্রি হচ্ছে।
অভিজাত বিপণিবিতান থেকে ঈদের কেনাকাটা করেছেন স্কুলশিক্ষক সিরাজুম মুনিরা। তিনি বলেন, তাঁদের বড় পরিবার, অনেক কেনাকাটা করতে হয়। এক দিন শুধু আরডিএ মার্কেটে ঢুকেছিলেন। সেখানে পুষ্পা, কাঁচা বাদাম, সারারা, গারারার ক্রেতাদের ভিড়। তিনি অভিজাত বিপণিবিতান ঘুরে কেনাকাটা করেছেন। সেখানে ভিড় একটু কম।
সপুরা সিল্ক মিলসের বিক্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক সাইদুর রহমান বলেন, সিল্কের মসলিন কাপড়ের ওপরে কাজ করা শাড়ি এবার বেশি বিক্রি হচ্ছে।
রাজশাহী ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী বলেন, গত চার-পাঁচ বছরে নগরে ৫০-৬০টি অভিজাত বিপণিবিতান গড়ে উঠেছে। তারপরও আরডিএ মার্কেটের বেচাকেনার আগের চেয়ে কমেনি। ভালো বেচাকেনা হচ্ছে।