গোপন ক্যামেরায় গোসলের দৃশ্য ধারণের অভিযোগ, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে গোপন ক্যামেরায় গোসলের দৃশ্য ধারণ এবং অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হওয়া মামলায় ওই নেতাকে গ্রেপ্তার করে আজ বৃহস্পতিবার কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি হলেন হিমেল সিকদার (২৩)। তিনি ফতেপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। তাঁর বাড়ি থলপাড়া গ্রামে।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেন খান ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের সই করা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আজ জানানো হয়েছে, হিমেলকে দলের সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটিতে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

হিমেল ঘটনা স্বীকার করেছেন। তাঁর তিনটি মুঠোফোন ও গোপন ক্যামেরা জব্দ করা হয়েছে।
মো. রিজাউল হক, ওসি, মির্জাপুর থানা

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হিমেল আট মাস আগে বিয়ে করেন। পরিবার তা মেনে না নেওয়ায় তাঁরা ইউনিয়নপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। হিমেল কয়েক দিন ধরে গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে বাসার মালিকের মেয়ের গোসলের দৃশ্য ধারণ করেন। সর্বশেষ তিনি ওই বাসায় আসা নতুন ভাড়াটিয়া দম্পতির অন্তরঙ্গ মুহূর্তের দৃশ্য ধারণের লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে ঘরের আড়ায় গোপন ক্যামেরা বসান।

ওই দম্পতি দেখে ফেলে ঘর থেকে বেরিয়ে হিমেলকে কক্ষের দরজা খুলতে বলেন। দরজা না খুলতে চাইলে ওই দম্পতি মালিকপক্ষকে ডাকেন। মালিকের মেয়ে এলে হিমেল দরজা খোলেন। প্রথমে তিনি গোপন ক্যামেরার কথা অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করেন। পরদিন বুধবার দুপুরে তাঁর মুঠোফোনে বাড়ির মালিকের মেয়ের গোসলের পাঁচটি ভিডিও পাওয়া যায়। খবর পেয়ে সন্ধ্যা সাতটার দিকে পুলিশ গিয়ে হিমেলকে আটক করে। এ ঘটনায় মালিকের মেয়ে থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রিজাউল হক বলেন, হিমেল ঘটনা স্বীকার করেছেন। তাঁর তিনটি মুঠোফোন ও গোপন ক্যামেরা জব্দ করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে আজ তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।