চট্টগ্রাম নগরের খালগুলো রক্ষণাবেক্ষণে ১০০ কোটি টাকা চান মেয়র

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতাফাইল ছবি

চট্টগ্রাম সিটিতে থাকা খালগুলো রক্ষণাবেক্ষণে ১০০ কোটি টাকা চেয়েছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (সিডিএ) এই টাকা দেওয়ার অনুরোধ করেন মেয়র।

আজ বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের বিষয়ে টাইগারপাসে অস্থায়ী নগর ভবনের সম্মেলনকক্ষে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিটি করপোরেশন ও সিডিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলররা বর্ষা মৌসুমের আগেই খালগুলো থেকে অস্থায়ী বাঁধ অপসারণের দাবি জানান। সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী ও সিডিএর চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যাপারে তেমন কোনো আশার বাণী শোনাতে পারেননি। তবে বলছেন, আগেরবারের তুলনায় এবার জলাবদ্ধতা কম হবে।

সমন্বয় সভায় সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী সিডিএর কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, নগরের নালা ও খালগুলো রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলমান রাখতে অর্থের প্রয়োজন। সিটি করপোরেশনের আর্থিক সংগতি সবাই জানেন। খাল ও নালাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য কোনো প্রকল্প নেই। এই কাজের জন্য সিটি করপোরেশনকে ১০০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা ছিল। সিডিএ যদি দিতে না পারে, সে জন্য আন্তমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই আর্থিক জটিলতার বিষয়টি নিরসন করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন মেয়র। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মধ্যে অতি দ্রুত বৈঠক আয়োজন করতে হবে। যদি মন্ত্রণালয় টাকা দেয়, তাহলে সিটি করপোরেশন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু করতে পারবে।

বর্ষা এলেই নগরবাসীর মধ্যে জলাবদ্ধতা নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় মন্তব্য করে মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বর্ষাকালে পানি উঠবে। কিন্তু পানি যাতে দ্রুত নেমে যায় এবং মানুষ যাতে দীর্ঘ মেয়াদে কষ্ট না পায়, সে জন্য কাজ করতে হবে। বিগত দিনে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। খালে ও নালায় পড়ে মানুষের জীবন বিপন্ন হয়েছে। তাই এবার বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো ঝুঁকিমুক্ত করতে হবে সিডিএ ও সিটি করপোরেশনকে।

সভায় সিডিএর চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ চলছে। সিটি করপোরেশন কাজ করছে। তবে কর্ণফুলী নদী যদি ড্রেজিং করা না হয় এবং ভরাট হয়ে যায়, তাহলে পানি নামবে না।

জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় খালগুলোর নির্মাণকাজ শেষে তা সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান এম জহিরুল আলম দোভাষ।

সভায় জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক ও সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহ আলী বলেন, প্রকল্পের আওতায় থাকা ৩৬টি খালের মধ্যে ৭টির কাজ শেষ হয়েছে। আগামী জুনের আগেই আরও ১১টি খালের কাজ শেষ হবে। তিনি বলেন, খালগুলোতে কাজ করার কারণে এখন এক-দুই ঘণ্টার বেশি পানি থাকে না।

আজকের সভায় সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা বর্ষা মৌসুমের আগে খালগুলো থেকে অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ এবং খাল খননের আহ্বান জানান।

নগরের ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বলেন, তাঁর এলাকায় টেকপাড়া ও ফিরিঙ্গীবাজার খাল দুটির কাজ চলছে ধীরগতিতে। এখন পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হয়নি। জলাবদ্ধতার কারণে গত ঈদে মানুষ অনেক বেশি কষ্ট পেয়েছে। এবার যেন সে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।

পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এম আশরাফুল আলম বলেন, চাক্তাই খালে এখনো বাঁধ রয়ে গেছে। পানিনিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই খাল ভরাট হয়ে গেছে। এ কারণে পানি রাস্তা উপচে এলাকায় ঢুকে পড়ে।