চাঁদপুরে ইলিশ কমার প্রধান কারণ ড্রেজার: গবেষক
চাঁদপুরে দিনে দিনে কমে যাচ্ছে ইলিশ। এর পেছনে ড্রেজারের মাধ্যমে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনকে প্রধান কারণ মনে করছেন একজন ইলিশ গবেষক। শনিবার ইলিশবিষয়ক সভায় তিনি এ কথা তুলে ধরেন।
শনিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ইলিশবিষয়ক দুটি সভা হয়। এতে বক্তব্য দেওয়ার সময় চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, চাঁদপুরে ড্রেজারের (খননযন্ত্র) মাধ্যমে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে নদীতে তৈরি হচ্ছে নাব্যতা-সংকট। নষ্ট হচ্ছে ইলিশের খাদ্য ও স্বাভাবিক চলাচল। এর ফলে সমুদ্র থেকে ইলিশ মিঠাপানিতে এসে প্রজনন মৌসুমে ডিম ছাড়তে পারছে না। তাই সবার আগে নদীতে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। তাহলে ইলিশ বাঁচবে; রক্ষা পাবে দেশের মৎস্যসম্পদ।
সকাল ১০টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য বিভাগের আয়োজনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা হয়। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে এই সভার প্রতিপাদ্য ছিল ‘বেশি বেশি মাছ চাষ করি, বেকারত্ব দূর করি’। পরে বেলা ১১টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও এটুআইয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ই-কমার্সের মাধ্যমে ইলিশ বাজারজাতকরণের কর্মশালা এবং ‘লাইভ ফ্রম ইলিশের বাড়ি’ শীর্ষক প্রচারাভিযান। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ।
প্রথম সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন ইলিশ গবেষক আনিসুর রহমান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা প্রমুখ। বক্তারা জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন।
সভায় ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে অংশ নেন সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এন এম জিয়াউল আলম,এটুআইয়ের প্রকল্প পরিচালক আবদুল মান্নান, উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স (উই) সভাপতি নাসিমা আক্তার নিশা, চাঁদপুর জেলা মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি আবদুল বারি মানিক মজাদার, সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত প্রমুখ।