চাল আত্মসাতের অভিযোগে ডিলারশিপ বাতিল, ইউপি সদস্য আটক

সরকারের স্বল্প মূল্যে খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি কর্মসূচি ওএমএসের চাল আত্নসাতের অভিযোগে এক ব্যক্তির ডিলারশিপ বাতিল হয়েছে। আটক হয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্য। গতকাল শুক্রবার এই ঘটনা ঘটে।
যে ব্যক্তির ডিলারশিপ বাতিল হয়েছে, তিনি হলেন, কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ৩ নম্বর সুবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকারের বড় ভাই আবদুল কুদ্দুস। তাঁর ডিলারশিপ বাতিল করেছে উপজেলা প্রশাসন। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মান্নান মোল্লাকে আটক করে পুলিশ।
এদিকে চাল বরাদ্দ হয়েছে এমন খবর জানেন না কার্ডধারী অন্তত ৫০০ জন গরিব মানুষ। উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকার সারাদেশে ওএমএসের চাল ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি শুরু করেছে। এই খবর এই ইউনিয়নের অন্তত ৫০০ কার্ডধারী ব্যক্তি জানেন না। পরে তাঁরা গত বৃহস্পতিবার চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকারের কাছে গেলে, তিনি কোনো জবাব দিতে পারেননি। এরপর ওইদিনই ভুক্তভোগীদের একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিব হাসানকে ফোন করেন।
এরপর ইউএনও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উত্তম কুমার কবিরাজকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
তদন্ত দলের প্রধান উত্তম কুমার কবিরাজ বলেন, চাল বিতরণ সর্ম্পকে এলাকার কার্ডধারীরা অবগত ছিলেন না। কার্ডও তাঁদের কাছে ছিল না। এগুলো ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যসের কাছে আছে। প্রতি ইউনিয়নে উপকারভোগী ৫০০ জন গরিব মানুষ ১০ টাকা কেজি দরে মোট ৩০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা। এখানে কেউ পাচ্ছেন না। এদিকে ডিলারের বাড়িতে গেলে ডিলারও পালিয়ে যান। পরে ইউপি সদস্যকে আটক করে থানায় পুলিশের কাছে সোর্পদ করা হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত ৮ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টায় সুবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকারের বাড়িতে ট্রাক্টর ভর্তি চাল আসে। এরপর ওই চাল কোথায় গেল, তা নিয়ে সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি ইউএনওকে জানানো হলে, তদন্তে বেরিয়ে আসে চাল নিয়ে নয়ছয়ের কথা।
সুবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকার বলেন, 'আমার ভাই এই চালের ডিলার। আমি না। ওএমএসের চাল বিতরণের অনিয়মের সঙ্গে আমি জড়িত নই।'
তবে চেয়ারম্যানের ভাইয়ের মুঠোফোন কয়েকদফা ফোন করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ইউএনও রাকিব হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে। এখন আমাদের সব চেয়ে বড় কাজ হল উপকারভোগীদের কার্ডগুলো উদ্ধার করা। কোথায় এবং কার কাছে সেগুলো রক্ষিত আছে তা উদ্ধার করে গ্রাহকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া। যাতে চলমান কর্মসূচির চাল থেকে তাঁরা বঞ্চিত না হন।