চিকিৎসক নেই, জরাজীর্ণ ভবনে ঝুলছে তালা

করোনার প্রকোপ শুরু হলে ২০২০ সালের মে মাসে কেন্দ্রের চিকিৎসককে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।

  • কেন্দ্রের দুটি কোয়ার্টার এবং রোগী দেখার জন্য নির্দিষ্ট ভবনে তালা ঝুলছে।

  • প্রতিদিন এ কেন্দ্রে আশপাশের ইউনিয়নের ১০০ থেকে ১৫০ মানুষ আসতেন।প্রথম আলো

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের আবাসন তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে এক বছর ধরে। সাম্প্রতিক ছবি।
প্রথম আলো

ভবনগুলো খালি পড়ে আছে। দরজায় ঝুলছে তালা। জানালাগুলো ভাঙাচোরা। ধুলাবালি জমেছে সবখানে। ভেতরে পোকামাকড়ের বসতি। চিকিৎসক না থাকায় এক বছরের বেশি সময় ধরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রটি বন্ধ পড়ে আছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন দশক আগে উপজেলার জগৎসীতে মোস্তফাপুর স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রটি চালু হয়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই কেন্দ্রের দায়িত্ব পালনকারী উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা অবসরকালীন ছুটিতে যান। তখন একজন চিকিৎসককে এখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু করোনার প্রকোপ শুরু হলে ২০২০ সালের মে মাসের দিকে স্বাস্থ্য বিভাগ ওই চিকিৎসককে অন্যত্র সরিয়ে নেয়। তখন থেকে এর দরজায় তালা ঝুলছে।

অবসরে যাওয়া উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা সৈয়দ ফখরুল আলম বলেন, নেদারল্যান্ডস সরকারের আর্থিক সহায়তায় নির্মিত কেন্দ্রটি ১৯৮৭ সালে উদ্বোধন করা হয়। সারা দেশে এ রকম ৮৭টি কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে রাজস্ব খাতের না হওয়ায় এখানে স্থায়ী কোনো পদ বা জনবল নেই। কেন্দ্রটি চালুর কিছুদিনের মধ্যে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা হিসেবে তিনি প্রেষণে এই কেন্দ্রে যোগদান করেন। তিন দশক এখানেই চাকরি করেছেন।

সৈয়দ ফখরুল আলম আরও বলেন, এ কেন্দ্র থেকে ডাক্তার দেখানোর পাশাপাশি ওষুধও দেওয়া হতো। ওষুধ ও চিকিৎসক পাওয়ায় সদর উপজেলার মোস্তফাপুর, আমতৈল, নাজিরাবাদ ও গিয়াসনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতেন। মোস্তফাপুর ইউনিয়নে কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক নেই। ফলে কেন্দ্রটি ছিল তাদের ভরসাস্থল।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, কেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দুটি কোয়ার্টার এবং রোগী দেখার জন্য একটি ভবন রয়েছে। সেগুলোতে তালা ঝুলছে। ইটের গাঁথুনির কোয়ার্টার ভবন এবং লাল রঙের চিকিৎসাকেন্দ্রের দরজা-জানালার কাচ ভেঙে পড়ছে। ধুলাবালি, ময়লা-আবর্জনা জমে আছে বারান্দা ও কক্ষের মধ্যে। কোয়ার্টার ও চিকিৎসাকেন্দ্রের চারপাশে আগাছা বেড়ে উঠেছে। জগৎসী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আবদুল বাছিত বলেন, করোনা শুরু হলে চিকিৎসক চলে যান। কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়। ভবনের ভেতর এখন সাপ, ব্যাঙ, পোকামাকড় বাসা করছে। এখানে প্রতিদিন আশপাশের ইউনিয়নের ১০০ থেকে ১৫০ মানুষ আসত। এটা চালু থাকলে তাদের ছোটখাটো সমস্যায় মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে যেতে হতো না।

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক আবেদা বেগম বলেন, এই কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা সরাসরি তাদের না। প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়। কেন্দ্রটিতে একজন চিকিৎসক ছিলেন। করোনার শুরুতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাঁকে অন্যত্র প্রেষণে নেওয়া হয়েছে।

পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ মৌলভীবাজারের উপপরিচালক আবদুর রাজ্জাক বলেন, কেন্দ্রটি তাঁরা ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে চালাতেন। চিকিৎসককে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না। সিভিল সার্জনের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। দুই বিভাগেরই জনবল কম। তবে তাঁরা চেষ্টা করবেন কেন্দ্রটি আবার চালু করার।

সিভিল সার্জন চিকিৎসক চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ বলেন, করোনার প্রকোপ কমলে এখানে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে।