চিকিৎসায় সুস্থ ভুবন চিল অবমুক্ত

দুটি ভুবন চিল। উড়তে পারছিল না। উদ্ধার করে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসার পর উড়তে সক্ষম হওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার শহরতলির পারাইরচক এলাকায় অবমুক্ত করা হয়।
সিলেটের টিলাগড় এলাকার বন বিভাগের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রের চিকিৎসা দপ্তর সূত্র জানায়, গত ২১ মার্চ নগরের কাজী ইলিয়াস এলাকার বাসিন্দা আবদুল্লাহ জুনায়েদের বাড়ির আঙিনায় অসুস্থ অবস্থায় একটি চিল দেখতে পান। সেটি পরে সিলেটের পরিবেশ ও প্রাণী অধিকারবিষয়ক সংগঠন ভূমিসন্তান বাংলাদেশের সমন্বয়ক মোহাম্মদ আশরাফুল কবীরের সহায়তায় সংরক্ষণ কেন্দ্রে পাঠান। এর আগে গত ১ মার্চ সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী অধিকার ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকারী সংগঠন প্রাধিকার সদস্য আরিফ ইশতিয়াক আরেকটি চিল উদ্ধার করে এই চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠান। উদ্ধারের সময় দুটি চিলই উড়তে পারছিল না।
চিকিৎসক মনজুর কাদের চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, দুটি চিলকে একটানা চিকিৎসা দেওয়া হয়। একটি ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক। এ জন্য উড়তে পারছিল না। অপরটি ডানায় আঘাত পায়। পাশাপাশি তার ওড়ার পালকে সমস্যা ছিল। দুটো চিলকে একসঙ্গে চিকিৎসা দেওয়ার পর গত সোমবার থেকে উড়তে সক্ষম হয়। গতকাল ভূমিসন্তান বাংলাদেশের মাধ্যমে দুটি চিল একসঙ্গে পারাইরচকে অবমুক্ত করা হয়।
সিলেট শহরতলির দক্ষিণ সুরমা এলাকার পারাইরচক হাওর-বিল অধ্যুষিত একটি এলাকা। সেখানকার একটি অংশে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ফেলা হয়। ওই বর্জ্যের ভাগাড় ঘিরে ভুবন চিলদের অভয়ারণ্য রয়েছে।
গতকাল দুটো চিল সেখানে অবমুক্ত করে ভূমিসন্তান বাংলাদেশের সমন্বয়ক মোহাম্মদ আশরাফুল কবীর প্রথম আলোকে বলেন, সিলেট নগরের আকাশে যেসব চিল উড়তে দেখা যায়, তার সবই পারাইরচকের বাসিন্দা। দুটি চিলকে তাই সেখানে অবমুক্ত করা হয়েছে।