‘চেয়ারম্যান ভোট সব নৌকায়, মেম্বার দিবেন ইচ্ছামতো’
ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে মাঝিরকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া ওই ইউপির একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনী এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিলাশপুর ইউপিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী রাশেদ চোকদারের লোকজন ওই কেন্দ্রের দ্বিতীয় তলার ২ ও ৩ নম্বর বুথে ঢুকে ভোটারদের নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করছেন।
ওই কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভোটার বলেন, ‘ভোট দিতে এসে শুনি নৌকা মার্কার এজেন্ট ও কয়েকজন যুবক বলছে, “চেয়ারম্যান ভোট সব নৌকায়, মেম্বার দিবেন ইচ্ছামতো।” এর মধ্যে নৌকার লোকজন বুথে ঢুকে নৌকা মার্কায় জোর করে ভোট দিতে বাধ্য করেছে। তাদের কথা না শোনায় বেশ কয়েকজন ভোটারকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।’
২ নম্বর বুথের নৌকা প্রতীকের এজেন্ট নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ও নৌকার প্রতীকের কর্মীরা ভোটারদের ইভিএমে ভোট দেওয়ার জন্য সাহায্য করছেন। কিন্তু তাঁরা কাউকে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে জোর করছেন না।
ওই বুথের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবদুল আজিজের নির্বাচনী এজেন্ট নয়ন বেপারী বলেন, ‘আমরা সকাল আটটার দিকে ভোটকেন্দ্রে এসেছি। আধা ঘণ্টা পরই আমাদের সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এরপরও বেলা ১১টা পর্যন্ত কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। পরে ঢুকতে না পেরে কেন্দ্র থেকে চলে এসেছি।’
বিলাশপুর ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আলাউদ্দিন মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, ওই ইউপির নয়টি কেন্দ্রের সব কেন্দ্র থেকে তাঁর এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। নৌকার প্রার্থীর সমর্থকেরা গোপনে বুথে ঢুকে ভোটারদের নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করছেন। আলাউদ্দিন মোল্লার দাবি, নৌকা ছাড়া বাকি সাত প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রাশেদ চোকদার বলেন, সব কেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। কোনো কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়নি। ভোটারদের জোর করে নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়। নির্বাচনে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা এসব অভিযোগ করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের বিষয়ে মাঝিরকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, অনেক ভোটারের ইভিএম ব্যবহার না জানা থাকার কারণে ভোট দিতে সমস্যা হচ্ছে। তবে একজনের ভোট আরেকজন দিয়ে দেওয়ার কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়ার ব্যাপারেও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাঝিরকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ৪৪২ জন। সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এ কেন্দ্রে ১৫-২০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন।