নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতার ওপর হামলা চালিয়ে দুই পায়ে গুলি করার ঘটনায় পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করতে বিলম্ব করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও আজ শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে পৌর ছাত্রলীগের সদস্য নুর করিম ওরফে শাকিলের (২৪) ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তাঁকে রাজধানী ঢাকায় জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়েছে।
আহত ছাত্রলীগ নেতা নুর করিমের বাবা মো. সেলিম আজ শুক্রবার বিকেলে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁর ছেলে প্রতিবেশী এক নারীর জানাজায় অংশ নিতে যান। এ সময় বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবুদল কাদের মির্জার অনুসারী শহিদ উল্যাহ ওরফে কেচ্ছা রাশেলসহ একদল সন্ত্রাসী হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁর ছেলের দুই পায়ে কয়েকটি গুলি করে এবং হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। পরে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় তাঁর ছেলেকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার রাতে ছেলেকে তিনি ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
মো. সেলিম বলেন, ছেলেকে ঢাকায় আনার আগে তিনি বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভাগনে হুমায়ুন রশিদের মাধ্যমে শহিদ উল্যাহ ওরফে কেচ্ছা রাশেলসহ ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও সাত-আটজনকে আসামি করে একটি অভিযোগ (এজাহার) থানায় পাঠান। কিন্তু শুক্রবার খবর নিয়ে জানতে পেরেছেন, তাঁর অভিযোগটি পুলিশ মামলা হিসেবে রেকর্ড করেনি। সেলিম অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলের ওপর হামলাকারীরা বসুরহাটে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করছে না।
শুক্রবার বেলা সোয়া দুইটার দিকে যোগাযোগ করা হলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুদ্দিন আনোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রলীগ নেতা নুর করিমের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ওবায়দুল কাদেরের ভাগনে হুমায়ুন রশিদ বলেন, রাত সাড়ে নয়টার দিকে তিনি বাদী মো. সেলিমের স্বাক্ষরযুক্ত একটি এজাহার ওসির হাতে জমা দিয়েছেন। ওসি অভিযোগ গ্রহণ করে ‘দেখছেন’ বলে বিদায় করেন। এরপর আজ শুক্রবার জানতে পারেন, অভিযোগটি এখনো মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়নি।
থানায় অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে ওসির কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে বলেন, ‘এটা নিয়ে একটু ঝামেলা আছে, আমি রাতে বলব। একটু ঝামেলা আছে, সংশোধন করে দিতে হবে। ওর বাদী আসেনি। বাদী আসতে হবে।’ বাদী না আসলে মামলা নেওয়া হয় কি না, এমন প্রশ্নে ওসি সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, ‘একটু ঝামেলা আছে, এটা তদন্ত করতে দিছি, দেখি।’
থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও মামলা রেকর্ডে কালক্ষেপণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ ওবায়দুল কাদেরের ভাগনে মাহবুবুর রশিদ ওরফে মঞ্জু। শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায় প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেলের ঘটনার পর ওসি নিজেই তাঁকে ফোন করে বলেছিলেন, থানায় অভিযোগ দিতে এবং আমাদের শান্ত থাকতে। সে অনুযায়ী আমাদের কর্মীদের শান্ত রাখা হলো। রাতে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলো। কিন্তু পুলিশ সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করে আসামি গ্রেপ্তার না করে উল্টো আমাদের কর্মীদের বাড়ি বাড়ি হানা দিয়ে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেছে।’