ছাদকৃষি করে প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার পাচ্ছেন মনিরা
গাজীপুর মহানগরীর জোড়পুকুর পাড় এলাকায় মনিরা সুলতানা নামের এক নারী ‘বাড়ির ছাদে বাগান সৃজন’ ক্যাটাগরিতে প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার পাচ্ছেন। এ ক্যাটাগরিতে তিনি প্রথম হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা দীপঙ্কর বরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মনিরা সুলতানাসহ অন্যান্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পুরস্কারপ্রাপ্তির তথ্য জানা যায়।
মনিরা সুলতানা গাজীপুরের শ্রীপুরের প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা গ্রামের ব্যবসায়ী আকরাম হোসেনের স্ত্রী। গত বছরের ১৩ মার্চ ‘মনিরা সুলতানার ব্যতিক্রমী ছাদকৃষি’ শিরোনামে প্রথম আলোতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পর থেকে মনিরার ছাদকৃষি সম্পর্কে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর জানতে পারে। পরে তিনি ছাদকৃষি নিয়ে প্রশিক্ষণ, চারা ও বীজ বিতরণসহ বিভিন্ন সেমিনার আয়োজন করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে গত রোববার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার-২০২০’ পদকসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব ফারহিনা আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ও পদক মূল্যায়ন জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব ইকবাল আবদুল্লাহ হারুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানসহ কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কারের জন্য এ বছর ৭ ব্যক্তি ও ১৬ প্রতিষ্ঠানকে সরকার চূড়ান্তভাবে মনোনীত করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে মনিরা সুলতানা বলেন, ‘আমার এই কাজে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছে আমার স্বামী ও মেয়ে। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার পাওয়া আমার কাছে অনেক বড় বিষয়। এই পুরস্কার আমার কাজ ও দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’
২০১৪ সালের দিকে শখের বশে মনিরা অল্প কিছু গাছ এনে তাঁর ছাদে লাগিয়েছিলেন। এরপর হঠাৎ তাঁর মাথায় উৎপাদনমুখী ও বাণিজ্যিকভাবে গাছ লাগানোর চিন্তা এল। সেই ভাবনা থেকেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ঔষধি গাছ, সবজি ও নানা ধরনের ফলের গাছ আমদানি করেন। স্বামী আকরাম হোসেন যতবার বিভিন্ন দেশে গেছেন, ততবার তাঁর জন্য নিয়ে এসেছেন কোনো না কোনো উদ্ভিদের জাত।
মনিরা সুলতানার ছাদে শুধু ব্যতিক্রমী উদ্ভিদ নয়, বৈচিত্র্য আছে উদ্ভিদের পরিচর্যার প্রক্রিয়াতেও। সম্পূর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে চলছে তাঁর উদ্ভিদ পরিচর্যা। মাছ পালনের পানির হাউস থেকে ফাইটোপ্লাঙ্কটন-মিশ্রিত পানি দেওয়া হচ্ছে গাছের গোড়ায়। নিজেই উৎপাদন করছেন জৈব সার। গাছগুলোর গোড়ায় মাটি না দিয়ে সেখানে দেওয়া হচ্ছে নারকেলের ছোবড়া ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ।
ছাদকৃষি শুধু নিজের মধ্যে না রেখে তিনি তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন অন্যদের মধ্যেও। তিনি তাঁর ছাদে অন্যদের দিচ্ছেন প্রশিক্ষণ। এ ছাড়া কীভাবে খুব অল্প জায়গার সর্বোত্তম ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে চলে গবেষণা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রুপ খুলে অনলাইনে দেন প্রশিক্ষণ। নিজের ছাদে উৎপাদিত চারা থেকে কিছু বিক্রিও করেন তিনি। এভাবে ছাদ ও ছাদকৃষিকে বাণিজ্যিক রূপ দিয়েছেন মনিরা সুলতানা।
মনিরার ছাদবাগানে সব মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার উদ্ভিদ আছে। এর মধ্যে ৪০ প্রজাতির ঔষধি গাছ আছে। প্রায় ৬০ প্রজাতির শোভাবর্ধনকারী গাছ আছে। বিশেষ প্রজাতির গাছের সংখ্যা ২৬।