জগন্নাথপুরে বন্যার পানি নামছে ধীরগতিতে, ভিড় কমছে না আশ্রয়কেন্দ্রে
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় বন্যার পানি ধীরগতিতে নামছে। তবে এখনো উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামের ঘরে ঘরে বন্যার পানি রয়েছে। ফলে এখনো আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষ বাড়িতে ফিরতে পারছে না।
ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ১৬ জুন থেকে জগন্নাথপুরে বন্যা দেখা দেয়। এতে উপজেলার আট ইউনিয়নের গ্রামগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। উপজেলা পরিষদের সামনে এখনো হাঁটুপানি রয়েছে। উপজেলা পরিষদের তৃতীয় তলা একাডেমিক ভবনে আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য সব দপ্তরে কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরের জরুরি কাজ পৌরসভা ভবনে হচ্ছে।
পৌর এলাকার উপজেলা কমপ্লেক্স, জগন্নাথপুর, ভবানীপুর, খালিকনগর, আলখানাপাড, মোমিনপুর, হাসনাবাদসহ উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ঘরে ঘরে বন্যার পানি রয়েছে। সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলার আটটি ইউনিয়নের সঙ্গে উপজেলা সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। বিভাগীয় শহর সিলেট ও জেলা শহর সুনামগঞ্জের সঙ্গেও উপজেলার সরাসরি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ইকড়ছই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে কথা হয় হবিবনগর এলাকার ইদ্রিস আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, তাঁর ঘরে এখনো কোমরসমান পানি। ঘরে ফেরার মতো পরিবেশ হয়নি। ঘরে সব মালামাল বন্যার পানিতে নষ্ট হচ্ছে। একরকম বাধ্য হয়েই আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে হচ্ছে।
আঙুর মিয়া নামের আরেকজন বলেন, ‘বাড়ি ফিরে যেতে মন ছটফট করছে। কিন্তু পানি না কমায় ফিরতে পারছি না। এখানে (আশ্রয়কেন্দ্রে) থাকতে অনেক কষ্ট হচ্ছে।’
আশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব খান বলেন, পুরো ইউনিয়নের সব কটি গ্রামের বেশির ভাগ ঘরেই এখনো বন্যার পানি রয়েছে। ঘরে পানি থাকায় লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে উঠেছেন। তবে চুরি ও ডাকাতির ভয়ে পরিবারের এক-দুজন রাতে বাড়ি পাহারা দিচ্ছেন।
উপজেলা নাগরিক ফোরাম আহ্বায়ক নুরুল হক বলেন, সরকারিভাবে প্রচুর ত্রাণ বরাদ্দ এলেও ত্রাণ বিতরণের গতি কম। বেসরকারি উদ্যোগে প্রচুর ত্রাণ তৎপরতা চলছে। সমন্বয় না থাকায় অনেক লোক ত্রাণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, বন্যার পানি ধীরগতিতে নামছে। তবে এখনো বাড়িতে ফেরার মতো অবস্থা তৈরি হয়নি। উপজেলায় মোট ১৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। সব কটি আশ্রয়কেন্দ্রেই মানুষ অবস্থান করছে। এ পর্যন্ত ৯৩ মেট্রিক টন চাল ও কিছু শুকনা খাবার পাওয়া গেছে। সেগুলো বিতরণ চলছে।