‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে ঘিরে রাখা বাড়ি থেকে বোমা ও বোমার সরঞ্জাম উদ্ধার
নীলফামারী সদর এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে র্যাব। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে সদর এলাকার মাঝাপাড়ার শরিফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে এসব উদ্ধার করা হয়। পরে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করেছে র্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট।
এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন পাঁচ যুবককে আটক করে র্যাব। আটক যুবকেরা হলেন অহিদুল ইসলাম অহিদ (২৬), অহেদ আলী (৩০), আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে সুজা (২৬), জাহিদুল ইসলাম (২৮) ও নুর আমিন (২৮)। র্যাবের দাবি, তাঁরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সাংবাদিকদের জানান, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে আজ সকাল থেকে বাড়িটি ঘিরে রাখেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে র্যাবের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালিয়ে একটি বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। পরে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।
র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল কে এম আজাদের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন র্যাবের পরিচালক (গোয়েন্দা) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মশিউর রহমান, র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈনসহ র্যাব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যে বাড়ি থেকে বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি মৃত সুলতান আলীর নাতি শরিফুল ইসলামের বাড়ি। শরিফুল পেশায় রাজমিস্ত্রি। দুই বছর ধরে শরিফুলের চলাফেরায় বেশ পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শরিফুল ও তাঁর শাশুড়িকে নিয়ে গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রউপ বলেন, শরিফুল ইসলামের বাড়িটি তদন্তের সার্থে স্থানীয় আনসার ও গ্রাম পুলিশ সদস্যদের পাহারায় রাখা হয়েছে।