জীবন দিয়ে পরোপকারের দৃষ্টান্ত রাখলেন সালমান

মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নীলফামারী সদরের কুন্দপুকুর ইউনিয়নের মনসাপাড়া গ্রামের সালমান ফারাজি ওরফে শামীম (৩০)। আজ বুধবার সকাল আটটার দিকে ট্রেন আসতে দেখে রেললাইনের ওপর খেলতে থাকা তিন শিশুকে রক্ষায় ঝাঁপ দিয়ে তিন শিশুর সঙ্গে তাঁরও মৃত্যু হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সালমান ফারাজি তাঁর বাড়ির কাছের রেললাইনের একটি সেতুর নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পাহারাদার ছিলেন। পরিবারে আছে তাঁর স্ত্রী সুমি আক্তার (২৫), সাড়ে চার বছরের মেয়ে মিত্তাহুল জান্নাত ও মা চিনু বেওয়া (৫০)।

সালমান ফারাজি প্রায় তিন বছর আগে ঢাকার এফডিসিতে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় তিনি বিভিন্ন চলচ্চিত্রে ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয়ও করেছেন। এরপর বাড়িতে ফিরে গিয়ে স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন কাজ করতেন তিনি।

সালমানের প্রতিবেশী আলমগীর হোসেন (৩৫) জানান, সালমান পরোপকারী ছিলেন। যে কারও আপদে-বিপদে তিনি প্রথমে এগিয়ে যেতেন। আজ তিনি জীবন দিয়ে সেই পরোপকারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। এখন তাঁর পরিবার অসহায় হয়ে পড়ল।

সালমানের ভায়রা আকরাম হোসেন (৩০) বলেন, সালমান বাচ্চাদের বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন দিলেন। তাঁর পরিবারের যে এখন কী হবে!

নীলফামারী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, সালমান ফারাজি অনেক বিনয়ী ও পরোপকারী ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তিনি তাঁর কর্মস্থলে ছিলেন। বাচ্চা তিনটিকে বাঁচানোর জন্য বিপদ জেনেও ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। হয়তো আরেকটু সময় পেলে বাচ্চাদের বাঁচাতে পারতেন!’ তিনি জানান, তাঁর পরিবারের পাশে কীভাবে দাঁড়ানো যায়, সেটা স্থানীয় সাংসদ আসাদুজ্জামান নূরের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।