টিকাদান ও কোভিড নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম, বিশ্বে পঞ্চম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
টিকাদান কার্যক্রম এবং কোভিড নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম স্থান এবং সারা বিশ্বে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। আজ শনিবার দুপুরে মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনাভাইরাসের টিকার বুস্টার ডোজের বিশেষ কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জাহিদ মালেক বলেন, সরকারের লক্ষ্য প্রায় এক কোটি মানুষকে বুস্টার ডোজ দেওয়া। সপ্তাহব্যাপী বুস্টার ডোজের এ বিশেষ কার্যক্রম চলবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ টিকাদান কার্যক্রম ও কোভিড নিয়ন্ত্রণ সফলতার সঙ্গে চলমান। তিনি বলেন, ‘কোভিড নিয়ন্ত্রণের কারণে দেশে সবকিছু স্বাভাবিক। দেশের অর্থনীতিসহ চিকিৎসা ও শিক্ষাব্যবস্থা স্বাভাবিক আছে। দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান স্বাভাবিক আছে। আমরা আরও ভালো রাখতে চাই।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আরও বলেন, ইতিমধ্যে প্রায় ১২ কোটি ৮৭ লাখ মানুষকে প্রথম ডোজ এবং ১১ কোটি ৭৭ লাখ মানুষকে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় দেড় কোটি মানুষকে বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার ১৬ হাজার ৬৫০টি কেন্দ্রে এই বুস্টার ডোজের বিশেষ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ৮৫ হাজার চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা টিকাদান কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
বুস্টার ডোজ নেওয়া জরুরি মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, টিকা নেওয়ার কারণে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়েছে। বুস্টার ডোজ নিলে আরও সুরক্ষা হবে। টিকাদান কার্যক্রমে দেশে কোথাও কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। যাঁদের সময় হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে বুস্টার নেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
করোনার টিকার বুস্টার ডোজের বিশেষ এই কার্যক্রমের আয়োজন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) সামিউল হক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকা প্রয়োগ কমিটির সদস্যসচিব শামসুল হক, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল লতিফ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মহীউদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম, মানিকগঞ্জ পৌর মেয়র মো. রমজান আলী, সিভিল সার্জন মোয়াজ্জেম আলী খান চৌধুরী প্রমুখ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে নির্ধারিত করোনার টিকাকেন্দ্রে সকাল নয়টা থেকে বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হবে। এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ের কেন্দ্রগুলোতেও এই টিকা দেওয়া হবে। করোনার টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার চার মাস পার করেছেন, এমন ব্যক্তিরাই বুস্টার ডোজ পাবেন। টিকা গ্রহণে ইচ্ছুক ব্যক্তির বয়স ১৮ বছরের বেশি হতে হবে। করোনার টিকা কার্ড সঙ্গে না থাকলে টিকা নেওয়া যাবে না।