ডোপ টেস্টে পরিবহন নেতাসহ ১২ জনের মাদক সেবনের সত্যতা, পরে কারাগারে
নাটোরে জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকসহ ১২ জনের ডোপ টেস্টে মাদক সেবনের অভিযোগের সত্যতা মেলায় তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আজ বুধবার সকালে নাটোর সদর আমলি আদালত এ নির্দেশ দেন।
গতকাল মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে শহরের মাদ্রাসা মোড় ও বলারিপাড়া এলাকা থেকে এই ১২ জনকে আটক করা হয়। পরে সদর হাসপাতালে তাঁদের ডোপ টেস্ট করা হয়।
নাটোর র্যাব ক্যাম্প (সিপিসি-২) সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নাটোরে একাধিক চক্র শহরের মাদ্রাসা মোড় ও বলারিপাড়া এলাকায় পরিবহন শ্রমিক অফিসসহ কয়েকটি স্থানে বসে মাদক সেবন করত। গোয়েন্দাদের নজরদারির ভিত্তিতে গতকাল রাতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেনসহ ১২ জনকে আটক করা হয়।
এরপর মধ্যরাতে তাঁদের নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে ডোপ টেস্ট করা হয়। পরে ডোপ টেস্টে তাঁদের সবার বিরুদ্ধে মাদক সেবনের সত্যতা মেলায় তাঁদের নাটোর সদর থানায় সোপর্দ করা হয়। আজ সকালে মাদক সেবনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের নাটোর সদর আমলি আদালতে নেওয়া হয়। আইনজীবীরা তাঁদের পক্ষে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তার বাকি ১১ জন হলেন সদর উপজেলার কানাইখালির মো. সৌরভ (৩০), ডাঙ্গাপাড়ার কামরুল ইসলাম (৩৬), হরিশপুরের মো. আকাশ (২২), শফিকুল ইসলাম (২২), মো. রনি (৩০), আল আমিন (২৪), মোজাম্মেল হক (২৫), চকবৈদ্যনাথপুরের শান্ত ইসলাম (২১), আগদিঘা কাঠাখালির হাফিজুল ইসলাম (২২), রানা খাঁ (২২) ও ইজাজুল ইসলাম (১৯)। তাঁরা সবাই পরিবহনসংশ্লিষ্ট পেশায় নিয়োজিত।
ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. সানরিয়া চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে এসে মাদক সেবনের আড্ডায় বসতেন। তাঁরা নেশাগ্রস্ত হয়ে এলাকার মানুষের শান্তি নষ্ট ও জনবিরক্তিকর বিভিন্ন আচরণ করতেন। গ্রেপ্তারের পর তাঁরা মাদক সেবনের বিষয়টি স্বীকারও করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে র্যাবের পক্ষ থেকে সদর থানায় মামলা করা হয়েছে।