তাদের জন্ম চাঁদের গাড়ি ও নৌকায়

নবজাতক
প্রতীকী ছবি

প্রসববেদনা উঠলে উম্রাচিং মারমাকে (ছদ্মনাম) নিয়ে আসা হচ্ছিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। হাসপাতালের পাশে পৌঁছার পর গাড়িতেই তিনি ছেলে চিংসাপ্রু মারমার (ছদ্মনাম) জন্ম দেন। আশপাশে লোকজন হঠাৎ সদ্য ভূমিষ্ট শিশুর কান্না শুনে অবাক। খোঁজাখুঁজি করতেই দেখেন চাঁদের গাড়ি থেকে কান্নার আওয়াজ।

এ ঘটনা বান্দরবানের রুমা উপজেলার। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত বুধবার ঘটে। অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীকে দুর্গম পাইন্দু ইউনিয়নের পাইন্দুখাল এলাকা থেকে নিয়ে আসা হচ্ছিল।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স লালসুম কিম বম ও ধাত্রী ঝিল্কি শর্মা জানান, ওই দিন তাঁরা জানতে পেরে দ্রুত চাঁদের গাড়িতে ছুটে যান। সেখানে স্বাস্থ্যসম্মত প্রসবের কাজ সম্পন্ন করেন। তারপর মা উম্রাচিং ও শিশু চিংসাপ্রুকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। মা ও শিশু দুজনই সুস্থ হয়ে পরের দিন বৃহস্পতিবার তাঁরা পাইন্দু ইউনিয়নের পরুয়াপাড়ার বাড়িতে চলে গেছেন। দুর্গম পরুয়াপাড়া উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে।

ধাত্রী ঝিল্কি শর্মা জানিয়েছেন, একইভাবে গত ৩১ জুলাই একই পরুয়াপাড়ার পার্শ্ববর্তী নিয়ংখ্যংপাড়ার চিংসানু মারমার (ছদ্মনাম) প্রসববেদনা ওঠে। আত্মীয়রা পাইন্দু খাল থেকে শঙ্খ নদ হয়ে নৌকায় করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসছিলেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘাটে এসে নৌকায় চিংসানু সন্তান প্রসব করেন। জানতে পেরে তিনি (ঝিল্কি) ও নার্স দীপালি বাড়ৈ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে নৌকায় চলে যান। নৌকায় প্রসবকাজ সম্পন্ন করে মা ও শিশুকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। কোনো সমস্যা না থাকায় এক দিন পর তাঁরাও বাড়ি চলে যান।

পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা জানিয়েছেন, পরুয়াপাড়া, নিয়ংখ্যংপাড়া দুর্গম এলাকা। পাড়ার বাসিন্দারাও অত্যন্ত অনগ্রসর।

রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বামংপ্রু মারমা বলেন, রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতি মাসে ১৪ থেকে ১৫ জনের প্রাতিষ্ঠানিক সন্তান প্রসব হয়ে থাকে। এ ছাড়া যেসব পাড়ায় যোগাযোগব্যবস্থা নেই, সংবাদ দিলে সেখানে অভিজ্ঞ ধাত্রীরা গিয়ে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে সন্তান প্রসবের কাজ করেন।

বান্দরবানের সিভিল সার্জন অংসুইপ্রু মারমা বলেছেন, দুর্গম এলাকার মানুষ আগের চেয়ে সচেতন হয়েছেন। এ জন্য প্রতি উপজেলায় প্রাতিষ্ঠানিক সন্তান জন্মদান বেড়েছে। নৌকায় ও চাঁদের গাড়িতে হলেও প্রশিক্ষিত নার্স ও ধাত্রীদের দ্বারা নিরাপদে সন্তান জন্মদান হচ্ছে।