তিন প্রার্থীর পক্ষে একত্রে কাজ করার ঘোষণা

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যানসহ তিন প্রার্থীর পক্ষে বিভক্তি ভুলে এক হয়ে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। গতকাল মঙ্গলবার কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সাংসদ ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন এ ঘোষণা দেন।

ওই তিন প্রার্থী হলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আহসানুল আলম, ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. আবুল কালাম আজাদ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক সানোয়ারা বেগম।

দলটির নেতা-কর্মীরা জানান, মুরাদনগরে দীর্ঘদিন ধরে সাংসদ ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের সঙ্গে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকারের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এবার এই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে জাহাঙ্গীরের ছেলে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আহসানুল আলম দলীয় মনোনয়ন পান। এরপর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

আজ বুধবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। তাই গতকাল আওয়ামী লীগ সভা করে তিনটি পদে একক প্যানেল ঠিক করে। এতে ওই তিনজনকে দলীয় সমর্থন দেওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। দলের অপর প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য বলা হয়েছে।

জানতে চাইলে মুরাদনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ হারুনের অনুসারী পার্থ সারথী দত্ত বলেন, এমপি সাহেব (হারুন) ও জাহাঙ্গীর ভাই বসে তিনজনকে দলীয় সমর্থন দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান। এ নিয়ে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের তখনকার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকারের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ে। ভোটে হারুন হেরে যান। ২০০১ সালেও দলীয় মনোনয়ন পেয়ে পরাজিত হন হারুন। ২০০৮ সালে একই আসনে জাহাঙ্গীর আলম সরকারদলীয় মনোনয়ন পান। তিনিও ভোটে হারেন। ২০১৪ সালে আসনটি মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তখন ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন ও জাহাঙ্গীরের ছেলে আহসানুল আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। সে নির্বাচনে ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন।

দলীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ এ আসনে হারুনকে দলীয় মনোনয়ন দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আহসানুল আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন। কিন্তু ১ শতাংশ ভোটারের তথ্যে গরমিল থাকার কারণে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। পরে ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম সরকারের ২২ বছরের কোন্দলের নিরসন করা হয়।

জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম সরকারের অনুসারী উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ ফয়সাল আহমেদ বলেন, সাংসদ আওয়ামী লীগের তিনজনের একটি প্যানেল ঘোষণা করে দিয়েছেন। সবাই তাঁদের পক্ষে কাজ করবেন।