ত্বকী হত্যার ১০৯ মাস, ঘাতকদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আলোক প্রজ্বালন
নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ১০৯ মাস উপলক্ষে আয়োজিত আলোক প্রজ্বালন অনুষ্ঠানে ত্বকীর ঘাতক ও খুনের নির্দেশদাতাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে নগরের আলী আহাম্মদ চুনকা নগর মিলনায়তন চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি ধীমান সাহা। এটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদ। এতে বক্তব্য দেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক, নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি প্রদীপ ঘোষ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনি সুপান্থ, সিপিবি জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলন জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন, সামাজিক সংগঠন সমমনার সাবেক সভাপতি দুলাল সাহা প্রমুখ।
কর্মসূচি চলাকালে রফিউর রাব্বি বলেন, ‘নয় বছর পেরিয়ে গেলেও ত্বকী হত্যার বিচার শুরু হয়নি। এ দায় যতটা না বিচারব্যবস্থার, তার চেয়ে বেশি সরকারের। কারণ, তদন্তে যখন ত্বকীর ঘাতক সরকারদলীয় চিহ্নিত হলো, তখনই সরকার এ বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছে। ক্ষমতা হারানোর ভয়ে সরকার এখন জনগণের পরিবর্তে আমলা, পুলিশ ও বিদেশিদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। নির্বাচনী ব্যবস্থা, বাক্স্বাধীনতা, গণতন্ত্রসহ সবকিছুকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দেশে দুর্বিষহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।’
সমাবেশে বক্তারা ত্বকীর ঘাতক আজমেরী ওসমান ও খুনের নির্দেশদাতাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে ত্বকীসহ নারায়ণগঞ্জ ও দেশের সকল হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়।
২০১৪ সালের ৫ মার্চ তদন্তকারী সংস্থা র্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চার সেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছে। অচিরেই এ ঘটনায় হওয়া মামলার অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করা হবে। কিন্তু সে অভিযোগপত্র আজ পেশ করা হয়নি। ত্বকী হত্যার পর থেকে বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।