ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা দিতে ঢাকা থেকে বরিশালে এসে সাত সদস্যের দল কাজ শুরু করেছে। যাঁরা গুরুতর দগ্ধ, তাঁদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই অস্ত্রোপচার করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ওই চিকিৎসকেরা।
আজ শনিবার সকালে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ওই চিকিৎসক দলটি বরিশালে এসে পৌঁছায়। চিকিৎসক দলের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক (প্লাস্টিক সার্জারি) নুরুল আলম, মাসরুর উর রহমান, রেজিস্ট্রার মোরশেদ কামাল, চিকিৎসক মৃদুল কান্তি সরকার, শাওন বিন রহমান এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক আল মোনতাসির বিল্লাহ ও ইসতিয়াক সুলতান।
চিকিৎসক দলের প্রধান নুরুল আলম সকালে বলেন, ‘আমরা আজকে রোগীদের পর্যবেক্ষণ করব। প্রয়োজন হলে আজকেই জরুরি অপারেশন করব। এ জন্য অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।’
বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, এই হাসপাতালে দগ্ধ হয়ে ৮৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৯ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে এই হাসপাতালে ৩৫ জন দগ্ধ রোগী ভর্তি আছেন। এ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট বন্ধ থাকায় লঞ্চে গুরুতর দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে ঢাকা থেকে চিকিৎসকদের পাঠানো হয়েছে।
ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত তিনটার দিকে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী যাত্রীবাহী অভিযান-১০ লঞ্চে আগুন লাগে। ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন-সংলগ্ন সুগন্ধা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ঝালকাঠি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় তারা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে নিখোঁজ যাত্রীদের তালিকা তৈরি করছে। এখন পর্যন্ত তারা ৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে তথ্য পেয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা সুগন্ধাতীরে নিজেদের উদ্যোগে ট্রলার নিয়ে খোঁজাখুঁজি করছেন। এ ছাড়া বরিশাল ও ঝালকাঠির ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা সকাল থেকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে নেমেছেন।