দম্পতির ‘প্রেমের ফাঁদে’ অনেকেই প্রতারিত
প্রথমে বন্ধুত্বের সম্পর্ক, পরে প্রেম। তারপর দাওয়াতে সাড়া দিয়ে যাঁরা দম্পতির বাসায় গিয়েছেন, তাঁরাই হয়েছেন প্রতারণার শিকার। বন্ধুত্ব ও প্রেমের প্রতারণার এমন ফাঁদে পড়ে লাখ লাখ টাকা গচ্চা দিয়েছেন অনেকেই। আবার বাড়িতে নির্যাতন করেও হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে টাকা। রংপুর নগরে স্বামী-স্ত্রী মিলে এসব অপরাধ কর্মকাণ্ড চালাতেন।
শেষ পর্যন্ত র্যাব এই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল সোমবার রাত ৯টায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এই দম্পতি। পরে রাতেই তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।
সম্প্রতি একটি মামলার ছায়াতদন্ত করতে গিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব-১৩) একটি দল।
গ্রেপ্তার দুজনের নাম শাহারুখ করিম অনীক (৩৪) ও তাঁর স্ত্রী আসমানি আক্তার (২৪)। রংপুর নগরের গ্র্যান্ড হোটেল মোড় সেনপাড়া রোড এলাকার বাসিন্দা তাঁরা।
গতকাল সন্ধ্যায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে র্যাব-১৩–এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মাহমুদ বশির আহমেদ জানান, রংপুর কোতোয়ালি থানার একটি মামলার এজাহারের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ জানতে পারে, ওই দম্পতিসহ তাঁদের একটি চক্র নগরের বিভিন্ন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে কৌশলে নিজেদের আস্তানায় নিয়ে যেতেন। এরপর সেখানে অশ্লীল ছবি তুলে জিম্মি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করতেন। জিম্মি করে অর্থ আদায় ছাড়াও হত্যার ভয় দেখিয়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করাসহ বিভিন্ন কৌশলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।
র্যাব জানায়, এক সংবাদের ভিত্তিতে গত রোববার রাতে নগরের গ্র্যান্ড হোটেল মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে শাহারুখ করিম অনীক ও তাঁর স্ত্রী আসমানি আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের সময়ে ওই বাড়ির ষষ্ঠ তলায় একটি টর্চার সেলের সন্ধান মিলেছে। সেখানে প্রতারণার ফাঁদে পড়া ব্যক্তিদের জিম্মি করে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন অনীক-আসমানি দম্পতি। ওই টর্চার সেল থেকে দুটি চাপাতি , ইলেকট্রিক শকের তার, মাদক সেবনের সরঞ্জামাদি, হাতুড়ি, ছুরি, স্ট্যাম্প, ভিডিও ধারণের দুটি মুঠোফোন ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই দম্পতি বিভিন্ন ব্যক্তিকে জিম্মি করে টাকা আদায় এবং নির্যাতন করার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের আইনের আওতায় আনার জন্য র্যাবের কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রশীদ বলেন, আশরাফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি ওই দম্পতির নামে গত ২৩ ডিসেম্বর প্রতারণার মামলা করেন। সেই মামলায় ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাঁদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিয়ে গতকাল রাতে কারাগারে পাঠিয়েছেন।