‘ঘুষের টাকাসহ’ কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আটক
দিনাজপুরে অটো রাইসমিলের নিবন্ধন নবায়নের জন্য ঘুষ গ্রহণকালে দুদকের পাতানো ফাঁদে গ্রেপ্তার হয়েছেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমান। আজ বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে শহরের ষষ্ঠীতলা এলাকা থেকে ঘুষের ৮০ হাজার টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। দিনাজপুর সমন্বিত দুদক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আহসানুল কবির পলাশের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
দুদক জানায়, দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার আমবাড়ী এলাকায় ঈশান অ্যাগ্রো অ্যান্ড ফুড লিমিটেডের ২০২২-২৩ অর্থবছরের ফিটনেস নিবন্ধন নবায়নের জন্য গত ২৭ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী মো. রাশেদুজ্জামান কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের অফিস নির্ধারিত ফরমে আবেদন করেন। গত সোমবার রাশেদুজ্জামান নিবন্ধন নবায়ন কাজের সর্বশেষ অবস্থা জানতে উপমহাপরিদর্শকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় উপমহাপরিদর্শক অফিস ও অন্যান্য খরচ বাবদ ৮০ হাজার টাকা দাবি করেন। অন্যথায় কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানান।
পরদিন মঙ্গলবার কোম্পানির প্রতিনিধি রাশেদুজ্জামান বিষয়টি দিনাজপুর সমন্বিত দুদক কার্যালয়ে লিখিতভাবে জানান। আজ বিকেলে উপমহাপরিদর্শকের চাহিদা অনুযায়ী ৮০ হাজার টাকাসহ কলকারখানা অফিসে যান রাশেদুজ্জামান। উপমহাপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান সেই টাকা নিয়ে তাঁর টেবিলের ড্রয়ারে রাখার সময় ঘটনাস্থলে দুদক প্রতিনিধিদল উপস্থিত হয় এবং ঘুষ গ্রহণকালে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় মোস্তাফিজুর রহমানকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দিনাজপুর শহরের পুলহাট এলাকার এক কারখানার মালিক বলেন, উপমহাপরিদর্শক বিভিন্ন সময়ে এভাবে লাইসেন্স নবায়নের জন্য টাকা নেন। গতকালও দুজন অটো রাইসমিলের মালিক ঘুষ দিয়ে লাইসেন্স নবায়ন করিয়েছেন।
দিনাজপুর সমন্বিত দুদক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আহসানুল কবির পলাশ বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল অভিযান পরিচালনা করেছেন। অভিযান পরিচালনাকালে ৮০ হাজার টাকা ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন। মামলার কাজ সম্পন্ন হলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে আদালতের কাছে সোপর্দ করা হবে।