দিনাজপুরের ১৩ উপজেলাতেই করোনা শনাক্ত

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

দিনাজপুরে নতুন করে ৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৬৪ জন। গতকাল শুক্রবার নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, খানসামা উপজেলায় কোভিড–১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলার সবগুলোতেই কোভিড–১৯ রোগী শনাক্ত হলো।

আজ শনিবার সকালে দিনাজপুরের সিভিল সার্জন আবদুল কুদ্দুস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ৯ মে ১২তম করোনাভাইরাস শনাক্ত উপজেলা ছিল বিরামপুর উপজেলা। খানসামা উপজেলায় করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া নারীর বয়স ২৭ বছর। তিনি ঢাকার মিরপুরে একটি ওষুধ কারখানায় কাজ করতেন। এক সপ্তাহ আগে পণ্যবাহী ট্রাকে করে নিজের এলাকায় ফেরেন।

খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা বলেন, ওই নারী বাড়িতে এসে কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। তাঁর শরীরে করোনাভাইরাসের কোনো উপসর্গ ছিল না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঢাকা কিংবা অন্য কোনো জেলা থেকে এলাকায় ফেরত এলে তালিকা করে তাদের নমুনা পরীক্ষা করছে। বুধবার ওই নারীর সন্ধান পেয়ে তাঁর নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

নতুন আক্রান্তদের মধ্যে দুজনের নমুনা ঢাকায় পরীক্ষা করা হয়েছিল। আক্রান্ত চিকিৎসক দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর বোচাগঞ্জ উপজেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তার গৃহকর্মী।

জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত দিনাজপুরে মোট আক্রান্ত ৬৪ জনের মধ্যে পুরুষ ৪৭ জন, নারী ১৪ জন এবং ৩ শিশু। সর্বোচ্চ সদর উপজেলায় ১৭ জন এবং সর্বনিম্ন ফুলবাড়ি, চিরিরবন্দর ও খানসামা উপজেলায় একজন করে। গতকাল রাত পর্যন্ত দিনাজপুরে ১ হাজার ৭৬১ জনের নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। ফলাফল পাওয়া গেছে ১ হাজার ৭৪১ জনের। সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন ১২ জন।

সিভিল সার্জন আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আক্রান্তদের সবাই হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন এবং সুস্থ আছেন। চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত তাদের খোঁজ রাখছেন এবং চিকিৎসা পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে আরও সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। তা না হলে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।