দুর্নীতির তদন্তে সরকারি সিদ্ধান্তের আগ পর্যন্ত নিয়োগ বন্ধ রাখার আহ্বান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকবৃন্দের’ সংবাদ সম্মেলন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিনস কমপ্লেক্সের শিক্ষক লাউঞ্জে
প্রথম আলো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সব নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত চেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষকসমাজের একাংশ। তাঁরা বর্তমান প্রশাসন ও উপাচার্যকে নিয়ে ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত আসার আগ পর্যন্ত সব নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে ইউজিসির তদন্ত কমিটির সুপারিশের ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্সের শিক্ষক লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলনে ‘দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকবৃন্দের’ ব্যানারে শিক্ষকেরা এই আহ্বান জানান। এ সময় দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকদের পক্ষে ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের মতো দায়িত্বশীল একটি প্রতিষ্ঠানের তদন্তে অনিয়ম-দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ার পর বর্তমান প্রশাসনের এসব কার্যক্রম পরিচালনার নৈতিক ভিত্তি নেই।
সুলতান-উল-ইসলাম, অধ্যাপক, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘বহুল সমালোচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালাকে সম্প্রতি ৫০২তম সিন্ডিকেটে আরও শিথিল করেছে বর্তমান প্রশাসন। টুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চারটি প্রভাষক পদে এবং ফলিত গণিত বিভাগে দুটি প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য এসএসসি ও এইচএসসিতে যোগ্যতার শর্ত শিথিল করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে ১৩ জন চিকিৎসা কর্মকর্তা, ১৪ জন সাধারণ কর্মচারী ও ১৪ জন সহায়ক কর্মচারী, সেন্টার অব এক্সিলেন্স ইন টিচিং অ্যান্ড লার্নিংয়ে ৪টি পদসহ বেশ কিছু দপ্তরে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে।’

অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের মতো দায়িত্বশীল একটি প্রতিষ্ঠানের তদন্তে অনিয়ম-দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ার পর বর্তমান প্রশাসনের এসব কার্যক্রম পরিচালনার নৈতিক ভিত্তি নেই। এর আগেও আমরা উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে সব নিয়োগ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলাম। এ জন্য দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকসমাজের মুখপাত্র হিসেবে আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ নভেম্বর প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের প্রায় ১০০ শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্বার্থে উপাচার্যকে একই আহ্বান জানিয়েছি।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, ‘আমি উপাচার্যকে আহ্বান জানাই, তিনি স্মৃতিফলকের কাজের সবকিছু প্রকাশ করুন। মানুষ জানুক সেখানে কী হয়েছে। তা না করে তিনি (উপাচার্য) দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করতে তদন্ত বিলম্বিত করছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী, ইংরেজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এক্রাম উল্যাহ, সংগীত বিভাগের অধ্যাপক অসিত রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যপন্থী ছাত্র–শিক্ষক–কর্মকর্তা–কর্মচারী ঐক্য মঞ্চের মানববন্ধন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধীজিবি চত্বরের সামনে
প্রথম আলো

এদিকে এর আগে বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে মানববন্ধন করেছেন বর্তমান উপাচার্যের অনুসারী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সেখানে তাঁরা শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নির্মাণে দুর্নীতি ও বঙ্গবন্ধুকে অবমাননায় জড়িত শিক্ষকদের চাকরি থেকে বহিষ্কারসহ বিচারের দাবি জানান।