দেশ ঘুরে মানুষই দেখেন অমরেন্দ্র

চট্টগ্রামের পাঠকদের মুখোমুখি হলেন ভারতীয় লেখক ও ভ্রমণবিদ অমরেন্দ্র চক্রবর্তী। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় প্রেসক্লাবে অবস্থিত বাতিঘর গ্রন্থ বিপণিকেন্দ্রে তাঁকে নিয়ে খোলামেলা আলাপের এক আসর অনুষ্ঠিত হয়। ‘কলম ও ক্যামেরায় অমরেন্দ্র চক্রবর্তী’ শিরোনামে এই অনুষ্ঠানে লেখক–পাঠকদের সামনে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। উত্তর দেন পাঠকের নানা প্রশ্নের।
বিশ্ব পর্যটক হিসেবে পরিচিত অমরেন্দ্র নিজের ভ্রমণ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ভিন্ন ভিন্ন দেশ বা সুন্দর সুন্দর জায়গা দেখার ইচ্ছে থেকে আমি ভ্রমণ করি না। যেখানে যাই, আমি শুধু মানুষ দেখি। নানা জাতের মানুষ আর তাদের আচরণ দেখে, নিজের ভেতরের আমিটাকে আমি বুঝতে চেষ্টা করি। সারা পৃথিবীই সোনালি মানুষে ভরা। আমি যেখানেই যাই সেখানেই সেই সোনালি মানুষের খোঁজ করি, ভালো মানুষের সান্নিধ্য পেতে চেষ্টা করি।’
অনুষ্ঠানে বাতিঘরের কর্ণধার দীপঙ্কর দাশ স্বাগত বক্তব্য দেন। অমরেন্দ্র চক্রবর্তীর শিশুসাহিত্য, ভ্রমণ-সাহিত্য নিয়ে কথা বলেন লেখক রাশেদ রউফ ও কবি ওমর কায়সার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কবি মোজাম্মেল মাহমুদ। আসরের শুরুতে ও শেষে অমরেন্দ্র চক্রবর্তীর তৈরি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, শিশুসাহিত্য ও সম্পাদনা মিলিয়ে অমরেন্দ্রর প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা ৩০টি। লেখালেখির জন্য অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। সে তথ্য উল্লেখ করে কবি ওমর কায়সার বললেন, ‘অমরেন্দ্র চক্রবর্তীর লেখা একদমই আলাদা রকমের। তিনি লিখছেন ভ্রমণবিষয়ক লেখা, সেটা হয়ে উঠছে গল্প বা উপন্যাস। তাঁর লেখা জীবনকে নতুনভাবে মেলে ধরে পাঠকের কাছে। শিশুদের জন্য লেখা কীভাবে বড়দের কাছেও সমানভাবে আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে, তা উপলব্ধি করার জন্য অমরেন্দ্র চক্রবর্তীর বই পড়তে হবে।’ উপস্থিত শ্রোতাদের প্রশ্নের জবাবে অমরেন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ‘লেখা যা লিখেছি তা কতটুকু সার্থক হয়েছে তা আমি জানি না, জানার বিশেষ ইচ্ছেও নেই। পাঠকের ভালো লাগলেই খুশি হই। তবে নিজের লেখার ক্ষেত্রেও আমি মানুষকেই খুঁজে পেতে চেয়েছি।’
পাঠ উন্মোচন
চিকিৎসক এ বি এম নুরল আলমের স্মৃতিকথা অতীত যখন মুখর সঙ্গী বইয়ের পাঠ উন্মোচন গতকাল শুক্রবার নগরের খুলশীর চিত্রভাষা গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেল চারটায় শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে ছিল বইয়ের অংশবিশেষ পাঠ, পাঠ প্রতিক্রিয়া ও প্রয়াত লেখকের স্বজন-শুভানুধ্যায়ীদের আলোচনা।
আলোচনা ও গ্রন্থ পাঠে অংশ নেন কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, নাট্যজন শিশির দত্ত,দৈনিক আজাদীর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক, লেখক ফেরদৌস আরা আলীম, অভিনেত্রী গীতা রুদ্র, কোডেকের নির্বাহী পরিচালক খুরশীদ আলম, শিক্ষাবিদ ইফতেখার আলম, কবি স্বপন দত্ত ও মুয়িন পারভেজ।
সংস্কৃতিকর্মী শ ম বখতিয়ারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন নুরল আলমের ছোট ছেলে আলোকচিত্রী ও চিত্রভাষা গ্যালারির সমন্বয়ক মইনুল আলম।
কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, একটি মুসলিম পরিবারের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনসহ সংস্কৃতিচর্চার বহু তথ্য-উপাত্ত এই বইটিতে রয়েছে। দুর্লভ আলোকচিত্র সংবলিত স্মৃতিকথামূলক এই বইতে ষাট-সত্তর দশকের চট্টগ্রামের চালচিত্র, নাট্য আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের কথা উঠে এসেছে।
অনুষ্ঠানে নুরল আলমের নাট্যজীবন নিয়ে আলোচনা করেন শিশির দত্ত। দৈনিক আজাদীর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক বলেন, পেশায় চিকিৎসক হলেও নুরল আলম ছিলেন আপাদমস্তক শিল্পী। মানবদরদি মানুষটি গরিব রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দিয়েছেন।