দোকানের নাম ‘ঝামেলা কিনি’, কী পাওয়া যায় সেখানে

ময়মনসিংহ নগরের একটি দোকানের নাম ‘মেসার্স ঝামেলা কিনি’
ছবি: প্রথম আলো

দোকানের সাইনবোর্ডে লেখা মেসার্স ঝামেলা কিনি। আগ্রহ নিয়ে দোকানে ঢুকলে দেখা যায়, ভেতরে এলোমেলোভাবে পড়ে আছে নষ্ট টেবিল ফ্যান, চার্জার, পুরোনো কম্পিউটার, পুরোনো তোশক—এমনকি ৩৫ বছরের পুরোনো একটি সাদা-কালো টেলিভিশন। দোকানের মালিক সায়েম আহমেদ এগুলো মানুষের কাছ থেকে কিনে আনেন। পরে মেরামত করে সেগুলো বিক্রি করেন অন্য ক্রেতার কাছে। ২১ বছর ধরে এই কেনাবেচা থেকেই রোজগার তাঁর।

ঝামেলা কিনি দোকানটির অবস্থান ময়মনসিংহ নগরের বলাশপুর এলাকায়। এই দোকানের যাত্রা শুরু ২০০১ সালে। এখন বলাশপুর এলাকায় তাঁর পাশাপাশি দুটি দোকান। একটি দোকানে কাঠের পুরোনো আসবাব এবং অন্য দোকানে পুরোনো ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ অন্যান্য জিনিস বিক্রি করেন তিনি। এসব কেনাবেচা করে তিনি প্রতি মাসে গড়ে এক লাখ টাকা রোজগার করেন। সায়েমের এখানে কাজ করেন কয়েকজন কর্মচারী।

আজ সোমবার দুপুরে কথা হয় সায়েম আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ২০০০ সালে তাঁর বাবা মারা যান। তখন তিনি উচ্চমাধ্যমিক পাস করে মাত্র স্নাতকে ভর্তি হয়েছেন। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরার চাপ আসে তাঁর ওপর। তখন ব্যবসা করার কথা ভাবেন তিনি। কিন্তু বেশি অর্থ বিনিয়োগের সামর্থ্য তাঁর ছিল না। তখন পুরোনো জিনিস কিনে বিক্রির ভাবনা আসে তাঁর মাথায়। সেই ভাবনা থেকেই ২০০১ সালে তাঁর মেসার্স ঝামেলা কিনি দোকানের যাত্রা শুরু।

দোকানের নাম এমন কেন, প্রশ্নের উত্তরে সায়েম বলেন, ‘মানুষ নিজের ঘরের পুরোনো আসবাবকে তো ঝামেলাই মনে করে। আমি সেসব ঝামেলাই যেহেতু কিনে আনি, তাই ব্যবসার নাম রাখি ঝামেলা কিনি।’ এর সঙ্গে তিনি যোগ করেন, শুরুতে ব্যবসার প্রচারের জন্য লিফলেট বিলি করতে হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায়, এমনকি প্রতিদিন ভোরে সংবাদপত্রের সঙ্গে লিফলেট বিলি করা হয়েছে। লিফলেট দেখে কেউ যোগাযোগ করলে তাঁরা গিয়ে পুরোনো জিনিস কিনে আনতেন। এখন প্রচার হয়েছে। ফেসবুকে পেজ আছে। মানুষ অনলাইনে যোগাযোগ করে।

সায়েম আহমেদ জানালেন, তাঁর সংগ্রহে অনেক পুরোনো টেলিভিশন, খাটসহ নানা জিনিস আছে। এগুলো তিনি বিক্রি করেন না। ময়মনসিংহ ও আশপাশের জেলায় নাটক-সিনেমার শুটিং হলে তাঁর কাছ থেকে সেগুলো ভাড়া নিয়ে যান শুটিংয়ের লোকজন।