দৌলতদিয়া ঘাটে উপচে পড়া ভিড়

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে নদী পারাপারের অপেক্ষায় মানুষের ভিড় অব্যাহত রয়েছে। আজ বুধবার সকালে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে ইউটিলিটি ফেরি বনলতায় ঢাকামুখী যান ও যাত্রীদের ভিড় ছিল এ রকমইপ্রথম আলো

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় প্রতিনিয়ত মানুষের ভিড় অব্যাহত রয়েছে। একদিকে ঢাকামুখী মানুষ যেমন নদী পাড়ি দিতে দৌলতদিয়ায় ভিড় করছেন, অন্যদিকে তেমন রাজধানী ছেড়ে আসা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী মানুষ নদী পাড়ি দিয়ে এসে ঘাটে ভিড় করছেন। তবে যানবাহনের বাড়তি ভাড়ার কারণে বাড়তি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এসব মানুষ।

আজ বুধবার সকালে দীর্ঘ সময় দৌলতদিয়া ঘাটে অপেক্ষা করে দেখা যায়, ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট দিয়ে ছোট ফেরিগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ির সঙ্গে সাধারণ যাত্রীরা আসা-যাওয়া করছেন। ওই সময় ঘাটে প্রায় ৫০০ যাত্রী ছিলেন।

৩ নম্বর ঘাটে নদী পাড়ি দিয়ে আসা ছোট ফেরি চন্দ্রমল্লিকার যাত্রী কৌশিক আহম্মেদ ফরিদপুরের মধুখালীর বাড়ি যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘কাঁচামালের ব্যবসা করি বলে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ট্রাকে করে ঢাকায় গিয়েছিলাম। রাতে আরও কিছু কাজ থাকায় সকালে ভেঙে ভেঙে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় আসি। নদী পাড়ি দিয়ে এখন পড়েছি বিপাকে। অন্য কোনো যান না থাকায় ইজিবাইকে করে অন্যান্য যাত্রীদের সঙ্গে ২০০ টাকা ভাড়া দিয়ে রওনা করেছি। মধুখালীতে পৌঁছাতে দুই ঘণ্টার মতো লাগবে। কিছু করার নাই, যেতে হবেই। অথচ স্বাভাবিক সময় মধুখালী থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে আসতে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা খরচ হতো।’

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে নদী পারাপারের অপেক্ষায় মানুষের ভিড় অব্যাহত রয়েছে। আজ বুধবার সকালে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে ইউটিলিটি ফেরি বনলতায় ঢাকামুখী যান ও যাত্রীদের ভিড় ছিল এ রকমই
প্রথম আলো

একইভাবে ঝিনাইদহ থেকে গাজীপুর যাচ্ছিলেন সাইফুল ইসলাম ও তাঁর ছোট ভাই। দুজনই গাজীপুরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। লকডাউনের কারণে বাড়িতে এলেও লকডাউন অনেকটা শিথিল হওয়ায় কর্তৃপক্ষ অফিসে যেতে বলেছে। বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেলে করে ৮০০ টাকায় রিজার্ভ করে দৌলতদিয়ায় এসে পৌঁছেছেন। এখন নদী পাড়ি দিয়ে কীভাবে যাবেন, সেই চিন্তা করছেন। সম্ভব হলে পাটুরিয়া থেকে মোটরসাইকেল বা ব্যক্তিগত গাড়ি রিজার্ভ করে যাবেন। তা না পেলে বাধ্য হয়ে বিকল্প যানবাহনে পৌঁছাতে হবে। তাঁরা বলেন, ‘চাকরি তো আগে রক্ষা করতে হবে। করোনা আমাদের বিপদের পর বিপদে ফেলে দিয়েছে। একদিকে রোজগারের পথ অনেকটা বন্ধের উপক্রম, অন্যদিকে ব্যয় বেড়েছে কয়েক গুণ।’

একদিকে ঢাকামুখী মানুষ যেমন নদী পাড়ি দিতে দৌলতদিয়ায় ভিড় করছেন, অন্যদিকে তেমন রাজধানী ছেড়ে আসা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী মানুষ নদী পাড়ি দিয়ে এসে ঘাটে ভিড় করছেন
প্রথম আলো

মাগুরা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে যাত্রী ভাড়ায় টানতে এসেছেন আমিনুল ইসলামসহ কয়েকজন। আলাপকালে আমিনুল বলেন, ‘লকডাউন থাকায় এখন আমাদের কদর অনেক বেড়েছে। দৌলতদিয়া ঘাট থেকে মাগুরা পর্যন্ত প্রত্যেক যাত্রী থেকে ন্যূনতম ৫০০ টাকা ভাড়া নিচ্ছি। দুজন যাত্রী নিলে ১ হাজার টাকা পেলে ৭০০ টাকা থেকে যায়।’ এত ভাড়া নিচ্ছেন কেন, জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি তো একা নিচ্ছি না। সবাই যেভাবে নিচ্ছে, আমিও সেভাবেই নিচ্ছি।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম বলেন, লকডাউন কিছুটা শিথিল হওয়ায় যাত্রী পারাপার অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষ করে প্রতিদিন সকালের দিকে ফেরিতে ব্যক্তিগত গাড়ির সঙ্গে যাত্রীর চাপ থাকছে। ঢাকামুখী মানুষের চাপ থাকছে বেশি। বিপরীত দিকে ঢাকা ছেড়ে আসা মানুষের ভিড়ও কম নয়।