ধরমপাশায় জব্দ করা খননযন্ত্র দিয়ে আবারও বালু উত্তোলন

সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলায় মনাই নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে সপ্তাহখানেক আগে খননযন্ত্রটি জব্দ করা হয়। জব্দ করা যন্ত্রটি বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদের জিম্মায় রাখা হয়। জব্দ করার পরদিন যন্ত্রটি দিয়ে আবার বালু উত্তোলন করা হলে প্রথম আলোতে সংবাদ প্রচারের পর তা বন্ধ করা হয়। এর পাঁচ দিন পর ওই খননযন্ত্র দিয়ে আজ মঙ্গলবার মনাই নদ থেকে আবারও বালু উত্তোলনের খবর পাওয়া গেছে।

জব্দ করা খননযন্ত্র দিয়ে আজ আবারও বালু উত্তোলনের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন খননযন্ত্রটির মালিক সাজু মিয়া। তবে তিনি এ ঘটনায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, চেয়ারম্যানের নির্দেশে তিনি বালু উত্তোলন করেছেন।

আর ইউপি চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ বলেছেন, সড়ক কিছুটা উঁচু করার জন্য বালু উত্তোলন করেছেন। বেআইনি হলে কাজ বন্ধ করে দেবেন।

উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের বংশীকুণ্ডা বাজারের দক্ষিণ পাশে মনাই নদের অবস্থান। দুই মাস ধরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ ও ওই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আজিবুর রহমান মিলে খননযন্ত্র দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন। বালু তুলে নদসংলগ্ন জমি ভরাট করে বসতভিটা তৈরি করাসহ তা অন্যত্র বিক্রি করে আসছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে নদসংলগ্ন ফসলি জমির ক্ষতি হচ্ছিল।

ভুক্তভোগী দুজন কৃষক গত ৩০ জুলাই ইউএনওর কাছে এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে ১১ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মধ্যনগর থানার পুলিশ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনতাসির হাসান উপজেলার বংশীকুণ্ডা বাজারের দক্ষিণ পাশে থাকা মনাই নদে অভিযান চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান। ওই সময় সেখানে থাকা খননযন্ত্রের মালিক সাজু মিয়াকে (৩৫) আটক করা হয়। এ ছাড়া নদে থাকা যন্ত্রটি জব্দ করে তা বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদের জিম্মায় রাখা হয়। আর সাজুকে মধ্যনগর থানায় নিয়ে আসা হয়। ‘ভবিষ্যতে আর এমন কাজ করবেন না বলে’ লিখিতভাবে অঙ্গীকার করলে সাজু সেখান থেকে ওই দিন বিকেলে মুক্তি পান।

টানা ১৯ ঘণ্টা খননযন্ত্রটি বন্ধ থাকার পর জব্দ করা সেই যন্ত্র দিয়ে পরদিন ১২ আগস্ট সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ওই নদে আবার বালু উত্তোলন করা হয়। প্রথম আলোর অনলাইনে এ নিয়ে ওই দিন সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় চাপের মুখে পড়ে ওই দিন বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়। টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর আজ মঙ্গলবার বেলা দুইটা থেকে সেই জব্দ করা খননযন্ত্র দিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবারও ওই নদ থেকে বালু উত্তোলনের কাজ শুরু করেন।

খননযন্ত্রের মালিক বংশীকুণ্ডা গ্রামের বাসিন্দা সাজু মিয়ার মুঠোফোনে আজ যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমার খননযন্ত্র দিয়ে বালু উত্তোলনের কাজ করছি। এতে আমার কোনো দোষ নেই।’

ওই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আজিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি আজ বলেন, ‘এতে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। নদ থেকে বালু উত্তোলনের কাজ ইউপি চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদই করছেন। অযথা আমাকে জড়ানো হচ্ছে।’

অভিযোগের ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ আজ মুঠোফোনে বলেন, ‘আমাদের বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সড়কটি পাকা করা হবে। তাই সড়কটি কিছুটা উঁচু করার জন্য নদ থেকে বালু তুলে তা ওই সড়কে ফেলা হচ্ছে। এটি বেআইনি হলে বালু তোলার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

আজিম মাহমুদ আরও বলেন, ‘স্থানীয় একটি চক্র আমাকে জড়িয়ে নানা অপপ্রচার চালিয়ে আমার সুনাম নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। আমার নির্দেশে এর আগে ওই নদ থেকে বালু উত্তোলন করা ও বালু অন্যত্র বিক্রিও করা হয়নি। এগুলো অপপ্রচারমাত্র।’

এদিকে ইউএনও মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘জব্দ করা খননযন্ত্রটি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছিল। সেটি দিয়ে আবার বালু উত্তোলন করার বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

আরও পড়ুন