ধর্ষণ মামলা করতে সহায়তার পর তুলে নিতে মারধরের অভিযোগ

বরগুনা জেলার মানচিত্র

বরগুনার পাথরঘাটায় ধর্ষণ মামলা তুলে নিতে হুমকি ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্যের বিরুদ্ধে। বাদীর অভিযোগ, ইউপি সদস্য মহিউদ্দিন আহমেদ হুমকি দেওয়ার পর তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় আছেন।

মহিউদ্দিন উপজেলার নাচনাপাড়া ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। মামলার বাদী ভুক্তভোগীর বড় বোন। গত ৩১ মার্চ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। প্রতিবেশী রাব্বি বাঘা নামের একজনকে আসামি করে গত ৩ এপ্রিল মামলা হয়।

বাদী প্রথম আলোকে বলেন, মামলা করতে ইউপি সদস্যই পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছিলেন খরচ চালাতে। কিন্তু মামলা করার পর আসামির সঙ্গে যোগসাজশে ইউপি সদস্য মামলা তুলে নিতে বারবার নির্দেশ দেন। সম্প্রতি বাড়িতে ডেকে নিয়ে মামলা তুলে না নেওয়ায় রেগে গিয়ে থাপ্পড় মারেন। একই সঙ্গে তাঁকে ও ভুক্তভোগীকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেন। এরপরও মামলা তুলে না নেওয়ায় এক লোক পাঠিয়ে পাঁচ হাজার টাকা ফেরত নিয়েছেন মহিউদ্দিন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউপি সদস্য মহিউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ভিকটিমকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছি, এসব কথা আপনাকে কে বলেছে। তা ছাড়া মামলায় কী হয়, তা পরে দেখা যাবে। এসব ব্যাপারে আমি কোনো কথা বলব না।’

পাথরঘাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বেলায়েত হোসেন বলেন, সমঝোতা বা মামলা তুলে নিতে হুমকির বিষয়টি তাঁর জানা নেই।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) পাথরঘাটা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শফিক খোকন বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সমঝোতা করানোর উদ্যোগ নেওয়ার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।