নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তিনজনের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে
নরসিংদীর শিবপুরে যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত তিনজনের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। একজনের নাম জহিরুল হক ওরফে সুমন (৩৮) এবং অপরজনের নাম রোজিনা আরজু ওরফে তুহিন (৩২)। তাঁরা দুজন স্বামী-স্ত্রী। অজ্ঞাতনামা তৃতীয় ব্যক্তি (৩৫) মাইক্রোবাসটির চালক। অসুস্থ মাকে দেখতে ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে মাইক্রোবাসটিতে করে স্বজনদের নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছিলেন ওই চিকিৎসক দম্পতি।
নিহত জহিরুল হক নরসিংদীর রায়পুরার মরজালের মোবারক আলীর ছেলে এবং রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের চিকিৎসক। আর রোজিনা আরজু রাজধানীর ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ (বারডেম) থেকে চিকিৎসক হওয়ার পর ঘরেই ছিলেন।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসক দম্পতিসহ ৮ জনকে বহনকারী মাইক্রোবাসটি বেলা দুইটার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সৃষ্টিগড় এলাকায় পৌঁছে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী যাত্রীবাহী একটি লোকাল বাসের সঙ্গে এর মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। যাত্রীবাহী লোকাল বাসটি অপর একটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটায়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই ওই চিকিৎসক দম্পতি ও চালক নিহত হন। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে বাস ও মাইক্রোবাসটি জব্দ করেছে হাইওয়ে পুলিশ।
নিহত চিকিৎসক দম্পতির স্বজন শামসুল হক বলেন, এই দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসটির আরও ৬ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন নিহত চিকিৎসক দম্পতির দুই সন্তান ওয়াহিদুল হক ও নাসিমুল হক, নিহত জহিরুল হকের বড় ভাই ওবায়দুল হক, তাঁর স্ত্রী নাসিমা বেগম এবং তাঁদের দুই সন্তান রিগ্যান হক ও রেহান হক। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা হতাহতদের উদ্ধার করে নরসিংদীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।
জহিরুল হকের পরিবার রাজধানীর শ্যামলীতে, ওবায়দুল হকের পরিবার মগবাজারে বসবাস করে। অসুস্থ মাকে দেখতে ও পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে তাঁরা নরসিংদীর রায়পুরার মরজাল এলাকার সিএনজি পাম্প এলাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। আজ সকালে মাইক্রোবাস ভাড়া করে রওনা হয়েছিলেন দুই পরিবারের মোট ৮ জন সদস্য। বাড়ির প্রায় পাঁচ কিলোমিটার আগে সৃষ্টিগড় এলাকার পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঈদের আনন্দের বদলে পরিবারটিতে এখন মাতম চলছে।
ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক খোকন কান্তি রুদ্র বলেন, লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত লোকজনকে স্থানীয় কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ দুর্ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।