নেত্রকোনায় কমছে ধনু নদের পানি, ঝুঁকিতে কীর্তনখোলা হাওরের বাঁধ

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার হাওরে অন্তত ১৫টি ফসল রক্ষা বাঁধ হুমকির মধ্যে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে কীর্তনখোলা বাঁধের একটি অংশ। বাঁধ রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা
ছবি: প্রথম আলো

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় ধনু নদের পানি গতকাল মঙ্গলবার রাত নয়টার পর থেকে কমছে। আজ বুধবার বেলা আড়াইটা পর্যন্ত ধনু নদের খালিয়াজুরী পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে পানি বেড়ে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

তবে উপজেলার বিভিন্ন হাওরের অন্তত ১৫টি ফসল রক্ষা বাঁধ হুমকির মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে কীর্তনখোলা বাঁধের একটি অংশ মারাত্মক হুমকির মুখে আছে। কৃষকেরা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে যেতে পারে। তলিয়ে যেতে পারে শত শত একর বোরো ধান।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লাল সৈকত প্রথম আলোকে বলেন, ‘কীর্তনখোলা বাঁধের একটি অংশ খুবই ঝুঁকির মধ্যে আছে। প্রশাসনের লোকজন, জনপ্রতিনিধিসহ বাঁধ রক্ষায় আমরা স্থানীয়দের নিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখনো কোনো বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি।’

আরও পড়ুন

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ধনু নদের পানি বাড়তে থাকলে মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরীর হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধগুলোতে চাপ বেড়ে যায়। এরই মধ্যে মদন উপজেলার ফতেপুর হাওর, খালিয়াজুরীর কীর্তনখোলা হাওর, লক্ষ্মীপুর হাওর, চুনাই হাওর, বাইদ্যার চর, কাটকাইলের কান্দা, বৈলং হাওরের বেড়িবাঁধের বাইরের অংশ তলিয়ে গেছে।

আর লেপসাই হাওর, চৈতারা হাওর, মায়েরচর হাওর, আসাদপুরের আশাখালী হাওর, কীর্তনখোলা হাওর, পায়া হাওর, দৈলং সাপমারা হাওর, পুটিয়া হাওর, ছাতিয়াসহ বিভিন্ন হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের অন্তত ১৫টি স্থান হুমকিতে আছে। এসব বাঁধের কোথাও কোথাও ধস ও ফাটল ধরেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলোর সংস্কারকাজও চলছে। বাঁধের বাইরের অংশ তলিয়ে তিনটি উপজেলার প্রায় ৬০০ হেক্টর জমির কাঁচা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফসল রক্ষায় বিভিন্ন বাঁধ তদারক করছেন কৃষকসহ পাউবো, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিরা। ভাঙন ঠেকাতে বাঁশ, বস্তা দিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন

অনেক এলাকার মসজিদে মাইকিং করা হচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও কাঁচা ধান কাটা হচ্ছে। হাওরের একমাত্র ফসল বোরোর ওপর নির্ভর করে স্থানীয় কৃষকদের সারা বছরের খরচ। ধান যখন পেকে আসছে, তখন ফসল রক্ষা বাঁধগুলোর নড়বড়ে অবস্থার কারণে চিন্তিত কৃষকেরা। হাওরাঞ্চলে ৩০০ কিলোমিটার অস্থায়ী বাঁধের মধ্যে খালিয়াজুরীতেই ১৮১ কিলোমিটার রয়েছে। ওই বাঁধ স্থানীয় কৃষকদের প্রায় ২২ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল আগলে রাখে।

গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ভারতের চেরাপুঞ্জি এলাকায় ৫৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। এর প্রভাবেই হাওর এলাকায় ধনু, কংস, সোমেশ্বরী, উব্দাখালীসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে পানির চাপ বাড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে ফসল রক্ষা বাঁধগুলো।

খালিয়াজুরীর পুরানহাটি গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ধনু নদে পানি কমলেও পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। কীর্তনখোলা বাঁধে বেশ কয়েক জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। বড় এ হাওরে পানি ঢুকলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে। এ ছাড়া পাশের বেশ কয়েকটি হাওরও তলিয়ে যেতে পারে। তবে বাঁধ রক্ষায় আমরা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁধ রক্ষায় আমরা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিন-চার দিন ধরে আমরা হাওরে বাঁধের কাছেই আছি। যেখানে বাঁশ, চাটাই, জিও ব্যাগ, মাটিসহ যা ফেলানো দরকার, তা-ই করে যাচ্ছি। এখনো কোনো বাঁধ ভাঙেনি।’