নোয়াখালীতে শিক্ষা কর্মকর্তাকে হাতুড়িপেটার ঘটনায় থানায় মামলা
নোয়াখালী সদর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রবকে (৪৭) প্রকাশ্যে হাতুড়িপেটার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরের দিকে সুধারাম থানায় মামলাটি রুজু করা হয়। সুধারাম থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান পাঠান প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিদর্শক মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আবদুর রব থানায় হামলাকারী দুজনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। সেখানে ফজলে এলাহী ওরফে এলমান ও মো. বাবু নামে দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দুজন আবদুর রবের আগের একটি মামলারও আসামি। চাঁদাবাজির ওই মামলায় কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে আবদুর রবের ওপর হামলা করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাড়ি নির্মাণের শুরু থেকে আবদুর রবের কাছে স্থানীয় বাসিন্দা ফজলে এলাহী ওরফে এলমান ও তাঁর সহযোগীরা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না পেয়ে তাঁরা নির্মাণসামগ্রী চুরি করেন।
পরিদর্শক মিজানুর রহমান আরও জানান, হামলাকারী ফজলে এলাহী ও সহযোগী মো. বাবুকে ধরতে গতকাল দুপুর থেকে সুধারাম থানা-পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। কিন্তু আজ দুপুর পর্যন্ত তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
আহত শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রব প্রথম আলোকে বলেন, তিনি শহরের রশিদ কলোনি এলাকায় একটি বাড়ি করেছেন। বাড়ি নির্মাণের শুরু থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ফজলে এলাহী ওরফে এলমান ও তাঁর সহযোগীরা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না পেয়ে তাঁরা নির্মাণসামগ্রী চুরি করেন। তিনি ওই ঘটনায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে সুধারাম থানায় মামলা দায়ের করলে ফজলে এলাহীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ৭-১০ দিন আগে ফজলে এলাহী আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পান।
আবদুর রব বলেন, গতকাল দুপুরে জুমার নামাজ শেষে তিনি ছেলেকে নিয়ে মসজিদ থেকে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় ফজলে এলাহী ও মো. বাবুসহ কয়েকজন তাঁর পথ রোধ করে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় তাঁর ছেলের চিৎকারে মসজিদ থেকে মুসল্লিরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।