পরিবারের দাবি, নিহত নজরুলের সঙ্গে থাকা টাকাও খোয়া গেছে

দুর্ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলামের স্বজনদের আহাজারি। রোববার উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে
ছবি: সাইয়ান

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার উত্তর ভেচকি গ্রামের কুদ্দুস আকনের ছেলে নজরুল ইসলাম (৩৬)। তিনি ঢাকায় কাঁচামালের ব্যবসা করেন। নিঃসন্তান নজরুল স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় থাকতেন। কয়েক দিন আগে স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। তাঁকে নিয়ে যেতে যমুনা পরিবহনের বাসে করে গ্রামে ফিরছিলেন তিনি। সঙ্গে নিয়ে আসছিলেন ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। কিন্তু আজ রোববার ভোরে বরিশালের উজিরপুরে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি।

নজরুলের স্বজনেরা তাঁর লাশ শনাক্ত করলেও তাঁর সঙ্গে থাকা টাকার ব্যাগটি খোয়া গেছে বলে অভিযোগ করেছেন। খোয়া যাওয়া টাকা খুঁজতে তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় দৌড়ঝাঁপ করেছেন। কিন্তু সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সন্ধান না পেয়ে উজিরপুরে থেকে লাশ নিয়ে নিজের গ্রামে রওনা হন। খোয়া যাওয়া টাকা খুঁজতে গিয়ে তাঁদের ফিরতে দেরি হয়েছে বলে জানান স্বজনেরা।

আরও পড়ুন

নিহত নজরুলের ভাতিজা মো. আব্বাস হোসেন বলেন, তাঁর চাচা নজরুল ইসলাম ঢাকায় কাঁচামালের ব্যবসা করেন। চাচি মুক্তা বেগম (২৭) তাঁর সঙ্গে ঢাকায় থাকতেন। কয়েক দিন আগে চাচি গ্রামের বাড়িতে আসেন। তাঁকে ঢাকায় ফিরিয়ে নিতে চাচা যমুনা পরিবহনে ঢাকা থেকে বাড়িতে রওনা দেন। পথে উজিরপুরে দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান।

আব্বাস হোসেন বলেন, চাচা ঢাকা থেকে রওনা হওয়ার সময় সঙ্গে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা একটি ব্যাগে নিয়ে ফিরছিলেন। এ ছাড়া মানিব্যাগে সামান্য কিছু টাকা ছিল। দুর্ঘটনার পর তাঁর দুটি ব্যাগের সন্ধান মিললেও টাকার ব্যাগটি খোয়া যায়। তিনি বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে উজিরপুরে পৌঁছে লাশ শনাক্ত করে ব্যাগ খুঁজতে গিয়ে দুটি ব্যাগ পেলেও টাকার ব্যাগটি পাইনি। টাকা খোয়ানোর বিষয়টি উজিরপুর মডেল থানা, গৌরনদী হাইওয়ে থানাকে জানিয়েছি কিন্তু টাকার কোনো সন্ধান পাইনি। এ জন্য লাশ নিয়ে ফিরতে দেরি হয়েছে।’

আরও পড়ুন

উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আর্শেদ বলেন, ‘আমরা আহত ও নিহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করার পাশাপাশি যাত্রীদের মালামাল রক্ষায় কাজ করেছি। যা স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। টাকা খোয়া যাওয়ার বিষয়ে আমরা জানি না। তা ছাড়া কেউ আমাদের বিষয়টি জানায়নি।’

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ বেলাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, নিহত নজরুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে টাকা খোয়া যাওয়ার বিষয়টি তাঁদের জানানোর পরে তাঁরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেছেন। কিন্তু তাঁরা এ ধরনের কোনো ব্যাগের সন্ধান পাননি।

আরও পড়ুন

বাসের যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যমুনা পরিবহনের বাসটি ঢাকা থেকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় যাচ্ছিল। চালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে উজিরপুর উপজেলার বামরাইলের আইয়ুব আলী হাওলাদারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। বাসটি তখন সড়কের পূর্ব পাশে মেহগনিগাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে দুমড়েমুচড়ে যায় বাসটি। দুর্ঘটনাস্থলে সেন্টু মোল্লা (৫০), রমজান আলী (৩৮), মাধব শীল (৪৬), আরাফাত হোসেন (৯), নজরুল ইসলাম (৩৬), জাহানারা বেগম (২৩) ও হালিম মিয়া (২৫) নিহত হন। বাকি তিনজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন