পাখির ছানারা ফিরল মায়ের বাসায়

মৌলভীবাজার জেলার মানচিত্র

শিশুর দলটি চা-বাগানের ভেতর গাছে গাছে পাখির বাসার খোঁজ করছিল। একসময় একটি ছায়াবৃক্ষের (চা-বাগানে শেড ট্রি নামে পরিচিত) কোটরে পেয়েও যায় বাসার খোঁজ। সেই বাসাতে তিনটি ছানা ছিল। পুষবে বলে শিশুরা ছানাগুলো ধরে নিয়ে যায়। এ রকম পাখির ছানা ধরার একটি খবর আসে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও উদ্ধারের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্ট্যান্ড ফর আওয়ার এনডেঞ্জারড ওয়াইল্ডলাইফের (এসইডব্লিউ) সদস্যদের কাছে।

খবর পেয়ে সংগঠনের এক সদস্য ঘটনাস্থলে ছুটে যান। শিশুদের বুঝিয়ে ছানাগুলো পুনরায় বাসায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এতে পাখির ছানারা মায়ের কাছে ফিরে যেতে পেরেছে।

ঘটনাটি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের খাইছড়া চা-বাগানের একটি এলাকার। গতকাল মঙ্গলবার এই পাখির ছানা ধরা ও ছানাদের মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পাখির ছানাগুলো ছিল কালো কোমর কাঠঠোকরার। এর ইংরেজি নাম ব্ল্যাক রাম্পড ফ্লেইমব্যাক। সারা দেশেই পাখিটি কমবেশি দেখা যায়। স্থানীয়ভাবে অনেকে এটিকে ‘গাছঠুকরি’ বলে।

এসইডব্লিউ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বন্য প্রাণীর আলোকচিত্রী খোকন থৌনাউজমের কাছে পাখির ছানা ধরার খবর আসে। পরে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। গিয়ে দেখেন, শিশুরা তিনটি ছানা পলিথিনের ব্যাগে রেখে খেলা করছে। খোকন শিশুদের বোঝানোর চেষ্টা করেন ছানাগুলোকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে না দিলে মা ও ছানা উভয়েই কষ্ট পাবে। অনেক বোঝানোর পর শিশুরা ছানাদের মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে রাজি হয়।

ওই দলে ছিল ছয় শিশু। এসইডব্লিউর সদস্যরা খাইছড়া চা-বাগানের একটি মাঠে শিশুদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাদের বোঝানো হয়, পাখিরা মানুষের বন্ধু। পাখি ফসলের পোকামাকড় খেয়ে মানুষের উপকার করে। পরে শিশুরা বলেছে, তারা আর বাসা থেকে পাখির ছানা আনবে না। পাখিও ধরবে না।

খোকন থৌনাউজম আজ বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ছানাগুলো ঠিক আছে কি না, দেখতে আজ সকালে আবার সেই গাছের কাছে গিয়েছিলেন। সেখানে দেখেন মা পাখি ছানাদের খাবার খাওয়াচ্ছে।