পাবনায় ব্যবসায়ীকে সাংসদপুত্রের মারপিটের ২ দিনেও মামলা হয়নি

পাবনা-৪ আসনের সাংসদ নূরুজ্জামান বিশ্বাসের ছেলে দোলন বিশ্বাস
সংগৃহীত

পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সাংসদ নূরুজ্জামান বিশ্বাসের ছেলে দোলন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীকে মারপিটের অভিযোগ ওঠার দুই দিনেও মামলা হয়নি। উল্টো সাংসদপুত্র ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বুধবার রাতে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি মামলার বাদীকে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার রূপপুরে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের উচ্ছিষ্ট পাঁচ ট্রাক রড চুরিকে কেন্দ্র করে বিরোধে সাংসদপুত্র ওই ব্যবসায়ীকে মারপিট করেন বলে অভিযোগ। গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার নতুনহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনায় আহত ব্যবসায়ীর স্ত্রী মাধবী আক্তার গত বুধবার থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন। তবে এজাহারে ত্রুটি রয়েছে বলে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি বলে দাবি করেছেন ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

আহত ব্যবসায়ীর নাম সোহেল রানা (৪৫)। তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাংলা পাওয়ার সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আজ সকালে আহত ব্যবসায়ীর স্ত্রী মাধবী আক্তার দাবি করেন, গতকাল বুধবার তিনি থানায় প্রায় ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করে এজাহার জমা দিয়েছেন। থানা কর্তৃপক্ষ এজাহার থেকে সাংসদপুত্রের নাম বাদ দিতে বলেছিলেন। কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত সাংসদপুত্রের নামসহ থানা এজাহার গ্রহণ করেছে। তবে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেনি।

মাধবী আক্তার দাবি করেন, মারপিটের ঘটনায় সাংসদপুত্রের জড়িত থাকার যথেষ্ট প্রমাণ আছে। তিনি এজাহার জমা দিয়ে ঢাকায় স্বামীর কাছে আছেন। এজাহারে কোনো ত্রুটি থাকলে তিনি পাবনায় ফিরে তা ঠিক করে দেবেন। তবে তিনি বিভিন্নভাবে হুমকির মুখে আছেন। মামলা না করতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর স্বামীর প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালককেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এজাহারটি গ্রহণ করেছি। তবে এজাহারে আসামিদের কোনো ঠিকানা নেই। আসামির ক্রমিক ঠিক নেই। বিষয়গুলো ঠিক করে দিলেই মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে। তবে আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। কেউ কাউকে হুমকি দিলে সে বিষয়টিও দেখা হবে।’

এজাহারে মাধবী আক্তার অভিযোগ করেন, সাংসদপুত্র দোলন বিশ্বাসের নেতৃত্বে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে পাঁচ ট্রাক উচ্ছিস্ট রড বের করা হচ্ছিল। বিষয়টি টের পেয়ে তাঁর স্বামী সোহেল রানা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে বিদ্যুৎ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ট্রাকগুলো আটক করে। এতে সাংসদপুত্র দোলন বিশ্বাস ক্ষিপ্ত হয়ে লোকবল নিয়ে তাঁর স্বামী সোহেল রানার ব্যবসায়িক কার্যালয়ে এসে ভাঙচুর চালান ও মারপিট করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।