পিকআপের মুরগির খাঁচার ওপর বসে বাড়ির পথে মানুষ

মুরগি বহনকারী পিকআপে করে মানুষ ছুটছেন বাড়ির পথে
প্রথম আলো

ছোট্ট পিকআপ ভ্যানের পেছনে সারিবদ্ধভাবে ওপরের দিকে মুরগির খাঁচা সাজানো আছে। তার ওপরে রয়েছে বাঁশ দিয়ে তৈরি মুরগির খাঁচা। একটু বড় আকৃতির ওই খাঁচায় বসে পিকআপের যাত্রী হয়েছেন সুমন্ত নামের এক ধান কাটা শ্রমিক। বগুড়া পর্যন্ত ভাড়া মিটিয়েছেন ৪০০ টাকা। এই চিত্র আজ মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাস বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশের।

সুমন্ত বলেন, শ্রমিকেরা স্বাভাবিক সময়ে দর-কষাকষি করে মির্জাপুর থেকে বগুড়া পর্যন্ত ১০০ থেকে ১৫০ টাকা ভাড়ায় যেতে পারেন। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দূরপাল্লার বাস চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় মুরগি বহনকারী পিকআপে ৪০০ টাকা যেতে হচ্ছে তাঁদের।

খাঁচার ওপরে লোকজন নিয়ে পিকআপ চালানোয় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে উল্লেখ করলে চালকের পাশের আসনে বসে থাকা বগুড়াগামী ওই পিকআপের মালিকপক্ষের একজন বলেন, ‘মানুষ বিপদে আছে। কী করবেন! তারা যাবে এখন। তারা বের হইছে মানে ফ্যামিলির সঙ্গে ঈদ করবে। সে ক্ষেত্রে তাদের একটু সহযোগিতা করছি।’

ঈদকে সামনে রেখে ওই স্থানে উত্তরাঞ্চলগামী কর্মজীবী মানুষের অনেক ভিড় দেখা যায়। তাঁরা মালামালবোঝাই কিংবা খালি ট্রাক, পিকআপ থামতে দেখলেই তাতে উঠে গন্তব্যে যেতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন।

মহাসড়কে প্রায় আধা ঘণ্টা থেকে দেখা গেছে, দূরপাল্লার যানবাহন না চললেও ঝাঁকে ঝাঁকে চলছে ট্রাক, মাইক্রোবাস, পিকআপ ও ব্যক্তিগত গাড়ি। তাতেই গাদাগাদি করে উত্তরবঙ্গের দিকে ছুটছে মানুষ। সপ্তাহের শুরু থেকেই ঈদ উপলক্ষে মানুষ ঘরমুখী হয়েছে।

মহাসড়কে মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলের স্কয়ার গেট এলাকা থেকে জামুর্কী পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার রাস্তায় অন্য ঈদের আগে থেমে থেমে কিংবা দীর্ঘ যানজট হলেও এবার এখনো তা হয়নি। তবে গোড়াই এলাকায় আন্ডারপাস নির্মাণকাজ চলমান থাকায় ওই স্থানে যানবাহনের সারি মাঝেমধ্যে দীর্ঘ হচ্ছে। ঢাকাগামী যানবাহনেরও প্রচুর চাপ রয়েছে।

মির্জাপুর ট্রাফিক পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাক আহমেদ বলেন, মহাসড়কে দূরপাল্লার যানবাহন চলছে না। টাঙ্গাইলের লোকাল বাসগুলো চলছে। মোটরসাইকেল রয়েছে প্রচুর। তাতেই লোকজন গন্তব্যে যাচ্ছে। রাস্তায় লকডাউন শুরুর পর দু-তিন দিন ধরে যানবাহন বেশি দেখা যাচ্ছে।