পৌর মেয়রের দোকানঘরসহ তিন শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ

রাজশাহীর পবা উপজেলার কাঁটাখালী পৌর এলাকায় গতকাল সোমবার তিন শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সড়কের দুই পাশের সীমানা থেকে ১০ মিটারের মধ্যে পড়া সব রকম স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ থেকে বাদ যায়নি কাঁটাখালী পৌর মেয়রের মালিকানাধীন একটি দোকানঘরও। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এই উচ্ছেদ অভিযান চালায়।
সওজ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টা থেকে সওজের সম্পত্তি ও আইন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে কাঁটাখালী পৌর এলাকায় রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের দুই ধারের সওজের সম্পত্তিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়। সড়কের সীমানা থেকে ১০ মিটারের মধ্যে গড়ে ওঠা যেকোনো স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। বিকেল সোয়া চারটা পর্যন্ত তিন শতাধিক স্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
এ ছাড়া এই সীমানার মধ্যে পড়ায় কাঁটাখালী পৌর মেয়র আব্বাস আলীর বাড়ি–সংলগ্ন তাঁর মালিকানাধীন একটি দোকানঘরও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রেজাউল ইসলাম নামের এক দোকানিকে এটি ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। এই দোকানের পাশে মেয়রের ভাইয়ের মালিকানাধীন আরও কয়েকটি দোকান ছিল। সেগুলোও ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে মেয়র আব্বাস আলী বলেন, তিনি মাসকাটাদীঘি উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতি হওয়ার সুবাদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সিঁড়িটা না ভাঙার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সওজ কথা শোনেনি। তিনি বলেন, তাঁর বাড়ির পাশের দোকানঘরটি তাঁর এক ভাই চালাতেন। সেটিও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু তাঁর স্থাপনা নয়, রাস্তার নির্ধারিত সীমানার মধ্যে পড়ে, এমন সব স্থাপনাই উচ্ছেদ করা হয়েছে। অথচ বিদ্যুৎ বিভাগ এই সীমানার মধ্যে নতুন করে বিদ্যুতের পোল বসিয়েছে। ফলে রাস্তার ধার দিয়ে ছোট যানবাহন চলাচলের জন্য সার্ভিস রোড তৈরির যে পরিকল্পনা থেকে এত কিছু, তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।
এ ব্যাপারে সওজের সম্পত্তি ও আইন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, সওজের একটি আইন আছে। এ ছাড়া হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে যে সড়কের দুই পাশের সীমানা থেকে ১০ মিটারের মধ্যে কোনো ধরনের স্থাপনা রাখা যাবে না। সেই নির্দেশনা অনুসারেই এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তবে এটা ঠিক, যে কারণে এই সড়কের দুই পাশের স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলো বিদ্যুতের পোলের কারণে সেই সার্ভিস রোডের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। এই সার্ভিস রোড চালু করা গেলে ছোট যানবাহনগুলো আলাদা রাস্তা দিয়ে চলত। এতে দুর্ঘটনা কম হতো।