প্যারাবনে পোকার আক্রমণ

পোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদীর তীরে সৃজিত প্যারাবন। প্রায় ১ হাজার ৬০০ একরজুড়ে এই প্যারাবনে ম্যানগ্রোভ জাতীয় বাইন ও কেওড়াগাছ রয়েছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশই বাইনগাছ। পোকার আক্রমণ হয়েছে এই বনের চার শ একরের প্রায় ৭ লাখ বাইনগাছে। আক্রান্ত গাছগুলোর পাতা লালচে হয়ে ঝরে যাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন পোকার আক্রমণে প্যারাবনের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই।

উপকূলীয় বন বিভাগের টেকনাফ রেঞ্জ কার্যালয় সূত্র জানায়, টেকনাফ উপকূলের সাবরাং, টেকনাফ সদর, পৌরসভা, হ্নীলা ইউনিয়ন ও জলিলের দিয়ায় প্রায় ১ হাজার ৬০০ একর বনভূমিতে ১৯৮০ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ২৮ লাখ ৮০ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। তার মধ্যে বাইনগাছ প্রায় ২৫ লাখ ও কেওড়াগাছ ৩ লাখ ৮০ হাজারের মতো। গত অক্টোবর মাস থেকে প্যারাবনের প্রায় ৭ লাখ বাইনগাছে পোকার আক্রমণ হয়েছে। তবে কেওড়াগাছে পোকার আক্রমণ হয়নি।

  গতকাল মঙ্গলবার টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, নয়াপাড়া, ঝিনাপাড়া, লেজিরপাড়া, নাজিরপাড়া, মৌলভীপাড়া, জালিয়াপাড়া, চৌধুরীপাড়া নতুন জেটি, নাইট্যংপাড়া, কেরুনতলি, জলিলের দিয়াসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায় বন বিভাগের সৃজিত প্যারাবনে পোকার আক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অসংখ্য বাইনগাছের পাতা ঝরে গেছে। লালচে হয়ে শুকিয়ে গেছে অনেক গাছ।

টেকনাফের উপকূলীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন আহমদ বলেন, প্রথম ২০১৪ সালের শীতের শুরুতে প্যারাবনের বাইনগাছে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছিল। তখন ধারণা করা হয়, শীত মৌসুমে পাতা ঝরে যাচ্ছে। কিন্তু আসলে এটি ছিল পোকার আক্রমণ। এরপর থেকে গত চার বছর ধরে এ রোগটি দেখা যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে একটি দল গত ২৫ নভেম্বর পোকা, আক্রান্ত পাতা ও ডালপালার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে দেখার জন্য সরেজমিনে পরিদর্শন করে গেছেন। চট্টগ্রামের ষোলশহরের বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের বন রক্ষণ বিভাগের একটি দলও আক্রান্ত প্যারাবন পরিদর্শন করেছে।

উপকূলীয় বন বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির প্রথম আলোকে বলেন, বিগত চার বছর ধরে চট্টগ্রামের মিরসরাই, চকরিয়া, মহেশখালী ও টেকনাফের কিছু এলাকায় এ পোকার আক্রমণ দেখা দিচ্ছে। তবে এ পর্যন্ত প্যারাবনের কোনো ক্ষতি হয়নি।

তিনি বলেন, টেকনাফের বিস্তীর্ণ এলাকার ম্যানগ্রোভ বনে পোকা ছড়িয়ে পড়েছে। এক থেকে দেড় ইঞ্চি লম্বা সবুজ পোকার আক্রমণেই লালচে হয়ে যাচ্ছে ম্যানগ্রোভ বন। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এটা মথ জাতীয় পোকা।

জানলে চাইলে বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের চট্টগ্রামের বিভাগীয় কর্মকর্তা (বন রক্ষণ বিভাগ) কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মথ জাতীয় পোকার আক্রমণে প্যারাবনের বড় ধরনের ক্ষতি হবে না। তবে এ কারণে বাইনগাছের বৃদ্ধি স্বাভাবিক হবে না। পরিবেশগত কারণে কীটনাশক দিয়ে পোকা ধ্বংস করা সম্ভব নয়। তবে এ জন্য পরিবেশবান্ধব জৈব কীটনাশক উদ্ভাবনের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ১৯টি পোকা শনাক্ত করা গেছে। আরও গবেষণার কাজ চলছে। কাক, শালিক ও বক পোকা খেয়ে ফেলায় প্যারাবন মড়ক থেকে রক্ষা পায়। বনে এসব পাখির বসার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।