প্রায়ই আটকে যায় লিফট

মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০টি লিফটের মধ্যে চারটি বিকল। বাকি ছয়টি সচল। কিন্তু পুরোনো হয়ে যাওয়ায় প্রায়ই এগুলো আটকে যায়।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লিফটগুলো পুরোনো হয়ে গেছে। প্রায়ই এগুলো আটকে যায়। ১২ মে হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যালয়ের সামনে
ছবি: প্রথম আলো

বন্ধ লিফটের দরজায় ধাক্কা দিয়ে চালককে ডাকতে হয়। এভাবে একাধিকবার ডাকার পর লিফট খুলে যায়। লিফট কোন তলায় অবস্থান করছে, তা–ও বোঝার উপায় নেই। কারণ, লিফটের তলা নির্দেশক ডিসপ্লে নষ্ট। প্রায়ই লিফট আটকে যায়। এতে চিকিৎসক, নার্স, কর্মকতা, কর্মচারী, রোগী এবং তাঁদের স্বজনেরা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

এই দুরবস্থা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লিফটগুলোর। পুরোনো হয়ে যাওয়ায় চালু হওয়ার পর লিফটে শব্দ হয় এবং দুলতে থাকে। এতে লিফটে ওঠার পর সবাই আতঙ্কে থাকেন। মাঝেমধ্যে লিফট আটকে থাকে। এরপর টেকনিশিয়ানরা এসে ঠিক করে আবার চালু করেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গণপূর্ত বিভাগ সূত্র জানায়, হাসপাতলের বিভিন্ন স্থানে ১০টি লিফট রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি লিফট চলাচল করে। বাকি চারটি লিফট দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে বন্ধ রয়েছে। বাকি ছয়টি লিফট সকাল আটটা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত চলাচল করে। এরপর বেলা দুইটার পর থেকে রাত আটটা দুটি লিফট চলে। রাত আটটা থেকে পরদিন সকাল আটটা পর্যন্ত একটি লিফট চলে। এই লিফটগুলো ১৯৭২ সালে স্থাপন করা হয়েছে। এক হাজার শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন রোগী ভর্তি থাকে প্রায় দ্বিগুণ। এর সঙ্গে রোগীর স্বজন, হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। সব মিলিয়ে পাঁচতলা ভবনের হাসপাতালে প্রায় চার হাজার মানুষ লিফট দিয়ে নিয়মিত ওঠানামা করেন।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রশাসনিক কার্যালয়ের সামনে চারটি লিফটের মধ্যে তিনটি চালু। এর মধ্যে একটি লিফটের দরজা বন্ধ থাকলেও ভেতরে আলো জ্বলতে দেখা যায়। একটি লিফটে ওঠার পর একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘কখন জানি লিফট বন্ধ হয়ে যায়।’ চলার সময় বিকট শব্দ হতে থাকে। লিফটে যেতে যেতে কুড়িগ্রামের এক রোগীর স্বজন আলমগীর মিয়া বলেন, ‘তিন দিন আগোত লিফটোত আটকি গেছনো। টানি টানি ঠিক হইছে। ভয় লাগলেও লিফটে চড়া লাগে।’

হৃদ্‌রোগ বিভাগে চিকিৎসাধীন একজন রোগীর স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘লিফট থাকলেও লক্কড়ঝক্কড় অবস্থা। উঠতে ভয় লাগে। প্রায় দিনই শুনি লিফট আটকে গেছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন লিফটচালক বলেন, প্রতিদিন না হলেও সপ্তাহে চার থেকে পাঁচবার লিফট মাঝপথে বন্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে। সর্বনিম্ন পাঁচ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ আধা ঘণ্টার বেশি লিফটে আটকে থাকার ঘটনাও ঘটেছে।

হাসপাতালের পরিচালক রেজাউল করিম জানান, লিফটগুলো অনেক পুরোনো। লিফটগুলো সংরক্ষণ ও মেরামতের দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগের। এসব লিফট রক্ষণাবক্ষেণ করার জন্য গণপূর্ত বিভাগে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।

গণপূর্ত বিভাগ রংপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খন্দকার বলেন, অধিকাংশ লিফট অনেক পুরোনো। লিফটগুলো সংস্কার করতে ঢাকায় এক মাস আগে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ