ফরিদপুরে চিকিৎসাধীন রোগীকে রাস্তায় ফেলে গেলেন আয়া

ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক রোগীকে হাসপাতালের সামনের সড়কে খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে
ছবি: প্রথম আলো

ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোশারফ মণ্ডল (৫৫) নামের এক রোগীকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ শুক্রবার সকালে ট্রলিতে করে তাঁকে হাসপাতালের সামনের সড়কে খোলা স্থানে ফেলে রাখা হয়। পরে ওই এলাকার এক বাসিন্দা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে।

পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে আবার ওই রোগীকে তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ সকাল সাড়ে ৬টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। মোশারফ ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার গোলকনগর গ্রামের মৃত ইয়াছিন মণ্ডলের ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুর।

জানা গেছে, ঝিনাইদহ থেকে দিনমজুরের কাজে ফরিদপুরে এসেছিলেন মোশারফ। ২৫ দিন আগে জেলার মধুখালী উপজেলায় সড়ক পারাপারের সময় মাইক্রোবাসের চাপায় গুরুতর আহত হন তিনি। মাথা, কোমর ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। প্রথমে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাঁকে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরিস্থিতির অবনতি হলে দুদিন পরে তাঁকে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে ২২ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ব্যবসায়ী আসলাম শেখ বলেন, সকালে দোকানে এসে দেখি, সামনের সড়কে একজন বৃদ্ধ লোক পড়ে আছেন। কাছে গিয়ে দেখি কাতরাচ্ছেন। পরে তাঁর কাছে গিয়ে বিস্তারিত জানতে পারি। এরপর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে উদ্ধার করে।

এলাকাবাসী ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ গিয়ে ওই রোগীকে উদ্ধার করে। পরে হাসপাতালের আয়া মেঘলা এসে আবার তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান
ছবি: প্রথম আলো

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক সুজন বিশ্বাস বলেন, হাসপাতালের সামনের সড়কে ওই ব্যক্তিকে ফেলে রাখা হয়েছিল। এলাকাবাসী ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। পরে হাসপাতালের আয়া মেঘলা এসে আবার তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

মেঘলা প্রথম আলোকে বলেন, মোশারফ তাঁকে বলেছিলেন, তিনি হাসপাতালে থাকবেন না। এ জন্য তিনি ট্রলিতে করে তাঁকে রাস্তার পাশে এনে রাখেন। তবে এ বক্তব্য নাকচ করে দিয়ে মোশারফ মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেক অনুনয়-বিনয় করেও হাসপাতালের লোকজন আমাকে কোনো চিকিৎসা দেয়নি। আমাকে একটি ট্যাবলেটও দেয় না। আবার সকালে রাস্তার মধ্যে ফেলে দিয়ে গেছে। আমাকে হাসপাতালের এক কোণে ফেলে রাখা হয়, কোনো ওষুধ দেওয়া হয় না।’

ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. সাইফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখবেন। যে আয়া এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, চিকিৎসাধীন মোশারফের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়টি ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান তদারকি করবেন।