ফেরিতে নিহত পাঁচজনের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের আর্থিক সহায়তা

ঈদে ঘরমুখী মানুষের ভিড়ছবি: প্রথম আলো

মাদারীপুরের বাংলাবাজার ফেরিঘাটে ফেরিতে নিহত পাঁচজনের দাফন-কাফন ও সৎকারের জন্য প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া ঘোষণা দিয়েছেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) রহিমা খাতুন। আজ বুধবার বিকেলে ঘাট এলাকা পরিদর্শনে এসে তিনি এ কথা জানান।

এ সময় জেলা প্রশাসক রহিমা খাতুন গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘ঈদ ঘরমুখী প্রচুর মানুষ ফেরিতে করে আসছেন। হাজার হাজার মানুষ ফেরিতে তীব্র রোদের তাপ দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সহ্য করছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, কড়া রোদের তাপে হিট স্ট্রোক করে মানুষ মারা গেছেন।’

ডিসি আরও বলেন, ‘ঘরমুখী মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবে এপার (বাংলাবাজার) থেকে পুলিশ বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আনসার বাহিনী, উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। ফেরি ঘাটে থামামাত্রই যাত্রীরা যেন হুড়োহুড়ি করে না বের হন, তাঁরা যেন আস্তে আস্তে করে ফেরি থেকে বের হয়ে আসেন, সেই ব্যবস্থাটা আমরা নিচ্ছি।’
যাত্রীদের প্রতি অনুরোধ রেখে ডিসি আরও বলেন, ‘এই করোনা মহামারির সময় যে যেখানে আছেন, সেখানেই অবস্থান করেন। যাত্রীরা যেভাবে ঝুঁকি নিয়ে ফেরিতে আসছেন, সেটা না দেখলে বিশ্বাস করার উপায় নেই। যেকোনো সময় যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।’

মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাটে ফেরি শাহ পরান ও এনায়েতপুরী থেকে নামতে গিয়ে নারীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হন অন্তত ৩০ জন যাত্রী। আহতদের উদ্ধার করে পাঠানো হচ্ছে হাসপাতালে। বুধবার দুপুরে ফেরিঘাটে
ছবি: প্রথম আলো

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে ছেড়ে আসা শাহ পরান ফেরিতে অতিরিক্ত যাত্রীদের চাপ, গরম ও পদদলিত হয়ে মাঝপদ্মায় মারা যায় আনচুর মাদবর (১৫)। পরে বেলা ১টার দিকে শিমুলিয়া থেকে প্রায় ৩ হাজার যাত্রী নিয়ে বাংলাবাজার ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসে ফেরি এনায়েতপুরী। অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে ওই ফেরিতে গাদাগাদির সৃষ্টি হয়। ফেরি থেকে নামতে গিয়ে যাত্রীদের চাপে ও পদদলিত হয়ে মারা যান আরও ৪ জন। এ সময় আহত হন অন্তত ২০ জন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা তাঁদের মধ্যে ১২ জনকে কাঁঠালবাড়িতে অস্থায়ী ক্যাম্প করে চিকিৎসা দেন। এ ছাড়া ৩ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং বাকিদের পাঁচ্চর রয়েল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আরও পড়ুন

রাত পৌনে আটটার দিকে চরজানাজান নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আবদুল রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের পরিচয় আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি। একই সঙ্গে ওই তিনজনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরও করা হয়েছে। বাকি দুজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করতে পারিনি। তাঁদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।’

মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাটে ফেরি শাহ পরান ও এনায়েতপুরী থেকে নামতে গিয়ে নারীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হন অন্তত ৩০ জন যাত্রী। আহতদের উদ্ধার করে পাঠানো হচ্ছে হাসপাতালে। বুধবার দুপুরে ফেরিঘাটে
ছবি: প্রথম আলো

যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে, তাঁরা হলেন শরিয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কলিকাপ্রসাদ এলাকার মো. গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মো. আনছার আলী (১৫), মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার আলামীন ব্যাপারীর স্ত্রী নিপা বেগম (৪৫) এবং বরিশালের মুলাদী উপজেলার চরকালিখান এলাকার এছহাক আকনের ছেলে নরুদ্দিন আকন (৪৬)।

আরও পড়ুন