বগুড়ায় যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী চাচাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

বগুড়ায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আব্দুর রাজ্জাককে হত্যার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। ছবিতে অভিযুক্ত ওমর খৈয়াম (ডানে) ছাড়াও সহযোগী সীমান্ত (মাঝে), লিমন শেখ (বাঁয়ে)। আজ সদর থানায় তোলা
ছবি: প্রথম আলো

বগুড়ায় জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে যুবলীগের সাবেক নেতা ও পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ওমর খৈয়াম সরকার ওরফে রূপমের বিরুদ্ধে ঈদের দিন রাতে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী চাচা আবদুর রাজ্জাক সরকারকে (৬৫) প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত একটার দিকে সদর উপজেলার মহিষবাথান তিনমাথা বাজারে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত আবদুর রাজ্জাক মহিষবাথান এলাকার বাসিন্দা। তবে তিনি বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলায় বসবাস করতেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত ওমর খৈয়াম সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সদস্য। তাঁর বিরুদ্ধে বগুড়া শহর ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হত্যা ছাড়াও অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে কমপক্ষে ১৫টি মামলা বিচারাধীন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা প্রথম আলোকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আবদুর রাজ্জাক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ওমর খৈয়াম (৪৫) ছাড়াও সহযোগী সীমান্ত (২০), লিমন শেখ (২২), হিফযুল হক ওরফে জনি (২৬) ও আল আমিনকে (২২) আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে জনি ও আল আমিন গুলিবিদ্ধ। তাঁদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের শহরের কালিতলা এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ।

ওসি সেলিম রেজা আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও বেশ কিছু গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চার মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে বগুড়ায় বসবাস করছিলেন আবদুর রাজ্জাক। ঈদের দিন রাতে তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গ্রামের বাড়ি মহিষবাথানে আসেন। রাতে মহিষবাথান তিনমাথা বাজারের একটি দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদুল হক বলেন, ভাতিজা ওমর খৈয়ামের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল আবদুর রাজ্জাকের। সেই বিরোধের জেরে আগে থেকেই চাচাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ওমর খৈয়াম। আবদুর রাজ্জাক গতকাল রাতে শহর থেকে গ্রামে এলে তিনমাথা বাজারে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রথমে ওমর খৈয়ামের নেতৃত্বে তাঁর ওপর হামলা করা হয়। এ সময় আত্মরক্ষার জন্য আবদুর রাজ্জাক নিজের লাইসেন্স করা অস্ত্র দিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়েন। তখন সন্ত্রাসীরা সরে যান। পরে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে হামলাকারীরা দ্বিতীয় দফায় তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন এবং ব্যক্তিগত গাড়িযোগে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ঘটনাস্থলেই আবদুর রাজ্জাকের মৃত্যু হয়।