বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, দক্ষিণ উপকূলে বৈরী আবহাওয়া
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে বরিশালসহ দক্ষিণ উপকূলে থেমে থেমে বৃষ্টি এবং দমকা ও ঝোড়ো হাওয়া বইছে। নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। সাগর খুবই উত্তাল থাকায় মাছ ধরার ট্রলারগুলো উপকূলের বিভিন্ন বন্দরে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। সমুদ্রবন্দরগুলোতে জারি করা হয়েছে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত।
গত রোববার থেকেই বরিশালসহ দক্ষিণ উপকূলে বৃষ্টি ও ঝোড়ো আবহাওয়া বিরাজ করছে। আজ মঙ্গলবারও তা অব্যাহত আছে। এ কারণে বরিশাল নগরে মানুষের উপস্থিতি ছিল কম। যানবাহনও কম দেখা গেছে সড়কে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভোগান্তিতে পড়েন শ্রমজীবীরা।
আবহাওয়া বিভাগ বলছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলে গতকাল সোমবার বেলা তিনটা থেকে আজ মঙ্গলবার বেলা তিনটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ অঞ্চলে স্থানীয় নদীগুলোতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে দুই থেকে তিন ফুট উচ্চতায় অধিক জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চল আরও প্লাবিত হতে পারে। এ সময় ৫৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
বরিশাল আবহাওয়া কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মো. আনিসুর রহমান বলেন, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ওডিশার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এটি এখন স্থলভাগে পৌঁছে যাওয়ায় ক্রমে দুর্বল হচ্ছে। বৃষ্টি ঝরলে এটি আরও দুর্বল হয়ে বুধবারের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। এর প্রভাবে উপকূলের নদ-নদীতে জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে নদ–নদীতে পানি বাড়ার ফলে অনেক এলাকার মানুষই পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বরিশাল নগরের পলাশপুর, রসুলপুর, আমানতগঞ্জ, কালিজিরা, দপদপিয়া, ধান গবেষণা সড়ক, সাগরদি, রূপাতলী, সদর উপজেলার চরবাড়িয়া, তালতলীসহ নিম্নাঞ্চল এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। ঘর থেকে বের হতে পারছে না এসব এলাকার বাসিন্দা।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী এ ইউ জাবেদ বলেন, কীর্তনখোলাসহ বরিশালের বেশ কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।
এদিকে বঙ্গোপসাগর তিন দিন ধরে খুবই উত্তাল রয়েছে। এ কারণে টিকতে না পেরে সাগরে অবস্থান করা কয়েক হাজার মাছ ধরা ট্রলার পাথরঘাটা, বরগুনা, মহিপুর, সুন্দরবনের দুবলা, কটকা, মেহেরআলীর চর, শরণখোলা, বাগেরহাটে আশ্রয় নিয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন গোলাম মোস্তফা চৌধুরী মঙ্গলবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, সাগর উত্তাল হয়ে ওঠায় উপকূলের জেলেরা সাগর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন, এমনিতেই এবার ইলিশের খরা। আর কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হবে ২২ দিনের ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা। এর মধ্যে সাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার ইলিশ মৌসুম পুরোটাই খরার মধ্য দিয়েই অতিবাহিত হবে বলে মনে হচ্ছে।